মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত সরকার। এ অবস্থায় পিছিয়ে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনও। খবর এপি।

গতকাল সোমবার (৩১ জুলাই) মিয়ানমারের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ রাজধানী নেপিদোতে বৈঠকে বসে। যেখানে জরুরি অবস্থা আজ মঙ্গলবার থেকে আরো ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সরকারের পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন।

২০২১ সালে ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয় শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির দল। এরপর থেকে সু চিসহ দলের নেতারা নানা মেয়াদে জেল খাটছেন। অভ্যুত্থানের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মাথাচড়া দিয়ে উঠে। নিহত, আহত ও বন্দির সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

তখন সামরিক বাহিনী জানায়, ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির কারণে ক্ষমতা দখল করেছে। ওই নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির ভূমিধস জয় পায়, আর সামরিক-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির অবস্থা ছিল খারাপ।

ওই সময় স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন, তারা বড় ধরনের কোনো অনিয়ম পাননি।

সেনা অভ্যুত্থানের পর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও দমনপীড়িন চালানো হয়। এরপর সৃষ্ট সশস্ত্র প্রতিরোধকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গৃহযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেন। রাজনৈতিক বন্দীদের সাহায্য করে এমন একটি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তিন হাজার ৮৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

সেনাবাহিনী প্রণীত ২০০৮ সালের সংবিধান সামরিক বাহিনীকে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থার অধীনে দেশ শাসন করার অনুমতি দেয়। নতুন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শেষ না হলে দুইবার ছয় মাস করে সময় বাড়ানো যায়। সে হিসেবে গত ৩১ জানুয়ারি সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এনডিএসসি সরকার এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সামরিক সরকারকে আরো ছয় মাসের জন্য জরুরি শাসন বাড়ানোর অনুমতি দেয়। তখন জানায়, মিয়ানমার এখন একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে। এরপর গতকাল চতুর্থবারের মতো সময় বাড়ানো হয়।