দক্ষিণ ফিলিপাইনে আজ সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর গার্ডিয়ান।
জেনারেল সান্তোস সিটি পুলিশের কর্মকর্তা রবার্ট ডাগন এএফপিকে বলেন, অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আমরা এখনই সবগুলো তালিকা করতে পারছি না, কারণ উদ্ধার অভিযান চলছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র জুনি কাস্তিলো জানান, এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১৩৪ জন আহত এবং ১২ জন নিখোঁজ।
এদিকে সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, আফটারশকের ঝুঁকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা অবকাঠামোতে প্রবেশ না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।
ভেরিফায়েড ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস সিটিতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন জোলিবির একটি রেস্তোরাঁর ওপরতলার অংশ ধসে পড়ে এবং একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের বাইরের কংক্রিটের দেয়াল ভেঙে পড়ে।
দাভাও দেল সুর অঞ্চলে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জেনারেল সান্তোস সিটির একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের ছবিতে দেখা গেছে, দোকানের প্রবেশদ্বার ধ্বংস হয়ে গেছে, কাঁচ ভেঙে পড়েছে এবং বাইরে বেঞ্চগুলো উল্টে পড়ে আছে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে, মিন্দানাও অঞ্চলে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৬ দশমিক ২ মাইল। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ এবং গভীরতা ছিল ৩৪ মাইল।
ভূমিকম্পের পরপরই প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানায়, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে ৩ মিটার পর্যন্ত এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে। পরে তারা জানায়, সুনামির বড় ঝুঁকি অনেকটাই কেটে গেছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে এবং সরকারি সংস্থাগুলো উদ্ধার ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শিশুদের নিরাপত্তাই প্রথম অগ্রাধিকার।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন তিনি।










