আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য তিন ধারার তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খবর এপি।
প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ বালেন। পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বালেন একজন র্যাপার হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। ২০২২ সালে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তা প্রশস্তকরণে সাহসী ভূমিকা রেখে জনসমর্থন পান তিনি।
নেপালের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল ‘নেপালি কংগ্রেস’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন গগন থাপা। ৪৯ বছর বয়সী এ নেতা দলের ভেতর দীর্ঘদিনের প্রবীণ আধিপত্য ভেঙে বিদ্রোহের মাধ্যমে সম্প্রতি দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গগন থাপার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিদ্রোহের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের জোট ছিল তার দল। তবে থাপা নিজেকে একজন সংস্কারবাদী ও দুর্নীতিবিরোধী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
এদিকে, গত বছর ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ অলি আবারো ক্ষমতার মসনদে ফিরতে মরিয়া। তার শক্তিশালী কমিউনিস্ট দল (সিপিএন-ইউএমএল) এখনো নেপালে বিশাল জনসমর্থন ধরে রেখেছে। তিনি মনে করেন, নেপালের নড়বড়ে অর্থনীতির জন্য তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও দৃঢ় নেতার প্রয়োজন।
আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তি হবেন গত দুই দশকের কম সময়ে নেপালের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী।
২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে হিমালয় কন্যা নেপাল ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূলত দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই গত সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল। বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরুণ কর্মহীন।
নেপালের এ নির্বাচন এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তি ভারত ও চীনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেপালি কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবে ভারতের নিকটবর্তী, অন্যদিকে অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্টরা চীনের সঙ্গে গভীর মিত্রতা বজায় রাখে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে দক্ষিণ এশিয়ায় এ দুই পরাশক্তির প্রভাবের ভারসাম্য।










