যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে ইরান লেবাননকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই তেহরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে শুক্রবার এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর রয়টার্স।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ইরানের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে লেবাননের সাধারণ মানুষ চরম মূল্য দিচ্ছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধে দেশটির জনগণ এখন পরিশ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, তার এ বক্তব্য লেবাননের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
সাক্ষাৎকারে ইরানের কৌশলগত অবস্থানের সমালোচনা করে আউন বলেন, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় লেবাননকে একটি দরকষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা একদমই অগ্রহণযোগ্য।
১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছর তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে এ অঞ্চলের সংঘাত নতুন রূপ নেয়।
লেবাননের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান জোসেফ আউন একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান। দেশটির ঐতিহ্যগত সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী পদটি ম্যারোনাইট সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। গত বছর পার্লামেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি হিজবুল্লাহর শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। এমনকি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা তাকে হিজবুল্লাহর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
তবে গত বৃহস্পতিবার, ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে হিজবুল্লাহ। ওই প্রস্তাবের মূল শর্ত ছিল—হিজবুল্লাহকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সমস্ত যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করতে হবে।
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেন, ওয়াশিংটনের চুক্তিটি লেবাননের জনগণের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাসেমের এ দাবির জবাবে প্রেসিডেন্ট আউন সরাসরি বলেন, লেবাননের সাধারণ মানুষ আপনার (হিজবুল্লাহর) লোক না।
লেবানন সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলেছে।










