আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারবিরোধী নজরদারি সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) লেবাননকে তাদের ‘ধূসর তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত শুক্রবার প্যারিসভিত্তিক এফএটিএফ এ তথ্য জানিয়েছে। ফলে দেশটির আর্থিক লেনদেন কড়া নজরদারির আওতায় আনা হবে। খবর আল জাজিরা।

এফএটিএফ বলছে, অর্থ পাচার রোধে লেবানন কয়েকটি সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি করেছে। দেশটি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

২০১৯ সাল থেকে লেবানন আর্থিক সংকটে রয়েছে। দেশটির নেতারা এ সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি হিজবুল্লাহর সঙ্গে বিরোধের জেরে ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে। এতে সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে লেবাননে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। লেবানিজ ব্যাংক ও বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

এফএটিএফের সভাপতি এলিসা ডি আন্দা মাদ্রাজো বলেন, ‘আমরা লেবাননে বিদ্যমান গুরুতর মানবিক পরিস্থিতি স্বীকার করি। ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যাতে সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছার রাস্তা খোলা থাকে সেটি নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উন্নতির জন্য পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়ার অংশ।’

এফএটিএফ আরো জানায়, লেবানন ছাড়াও আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও আইভরি কোস্টকে ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্নীতি-সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষমতা বাড়ানোয় সেনেগালকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

তবে সংস্থাটির কালো তালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে কিছু দেশের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।