ক্রাইমিয়া সেতুতে হামলা চালাতে আসা তিনটি ইউক্রেনীয় সামদ্রিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মধ্যরাত ও শনিবার ভোরে ক্রাইমিয়া সেতু লক্ষ্য করে এ ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। খবর আল জাজিরা।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানায়, ক্রাইমিয়া সেতুতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে কিয়েভের পাঠানো একটি নৌ ড্রোন গত শুক্রবার মধ্যরাতে এবং অন্য দুটি শনিবার ভোরে ধ্বংস করা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে একটি অর্ধবোঝাই চালকবিহীন নৌযান নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল কিয়েভ। সেটিকে যথাসময়ে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর ক্রাইমিয়া ব্রিজে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্যে কিয়েভ প্রেরিত তৃতীয় সেমি-সাবমার্সিবল মনুষ্যবিহীন নৌযানটিও মস্কোর স্থানীয় সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে কৃষ্ণ সাগরে ধ্বংস করা হয়।

বিশ্লেষকরা জানান, ১৯ কিলোমিটার সেতুটি দুটি সমান্তরাল কাঠামো নিয়ে গঠিত। যার একটি যানবাহনের জন্য সংরক্ষিত এবং অন্যটি রেল ট্রাফিকের জন্য। এটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি মূল অবকাঠামো প্রকল্প, কেননা এটি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়ান উপদ্বীপকে সংযুক্ত করেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছে হারানো ক্রাইমিয়া পুনর্দখলের পরিকল্পনার কথা জানালেও ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত ক্রাইমিয়া সেতু লক্ষ্য করে কয়েক দফায় হামলা পরিচালনা করছে। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, সেতুটি ক্রাইমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের হামলায় সেতুটির সড়ক অংশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই সময় দুজন নিহতও হয়। এ সেতু দিয়ে রাশিয়া থেকে ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে একটি বিস্ফোরণে সেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন রুশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাকে বিস্ফোরণের কারণে এটি ঘটেছিল।

ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট সম্প্রতি খবর প্রকাশ করেছে, ক্রাইমিয়ান সেতুকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য কের্চ স্ট্রেটে ফেরি ডোবানোর প্রক্রিয়া করছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, রুশ বাহিনী বিশ্বাস করে ডুবে যাওয়া নৌকাগুলো সেতুর সামনের পানিতে একটি প্রতিরক্ষামূলক লেন হিসেবে কাজ করবে। সংবাদপত্রটি বলছে, এরই মধ্যে একটি ফেরি ডুবে গেছে এবং রাশিয়া কমপক্ষে ছয়টি ফেরি ডোবানোর পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে আগস্টের শেষ দিকে ইউক্রেনের দুটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ছয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পূর্ব ইউক্রেনে একটি মিশনে ছিলেন তারা।

গত ৩০ আগস্ট ডিজিটাল মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতে অভিযানের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনাটি ঘটে আগের দিন। কী কারণে একসঙ্গে দুটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্রামাতোরস্কে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে। দোনেৎস্কের বিধ্বস্ত শহর বাখমুতের পূর্ব দিকে অবস্থিত এলাকাটি। রুশ হামলার শুরুর পর প্রায় ১৮ মাস ধরে ওই অঞ্চলে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে লড়াই চলছে।

আরো জানা গেছে, হেলিকপ্টার দুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইউক্রেন বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইয়েভেন রাকিতা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারে থাকা সবাই সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। তবে নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।