যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে ইসরায়েল। রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে চুক্তির জন্য এরই মধ্যে দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত তিনটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে দেশ দুটির মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় জর্জরিত মধ্য আফ্রিকার এ দেশটিতে গাজার বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এ প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আলোচনা প্রসঙ্গে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কথা বলি না।’
চলতি মাসে নেতানিয়াহু গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, নেতানিয়াহুর এ পরিকল্পনা আরেকটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা ‘নাকবা’ নামে পরিচিত। ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এ পদক্ষেপ আবারো একই ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশও গাজার সাধারণ মানুষকে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছে।
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, গত মাসে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানডে সেমায়া কুম্বা যখন ইসরায়েল সফরে যান, তখন দেশটির কর্মকর্তারা তার সঙ্গে বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেন। মঙ্গলবার এপিও অন্তত ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে একই তথ্য প্রকাশ করে।
তবে এর পরদিন দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, এ প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। শুক্রবার রয়টার্স আবারো এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা তাতে সাড়া দেননি।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসেফ বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ ও সরকার তাদের কাউকে দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও স্থানান্তর করার যেকোনো পরিকল্পনা বা ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে।’ বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতেও একই কথা বলা হয়। তবে গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত হামাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এদিকে গত সপ্তাহে সুদানের রাজধানী জুবা সফর করেছেন ইসরায়েলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেল। তিনি বলেছেন, ‘দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না।’ পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এমন নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়নি। আমরা দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতি, বহুপক্ষীয় সংস্থা, মানবিক সংকট, দক্ষিণ সুদানে ঘটে চলা মানবিক সংকট ও যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছি।’
অবশ্য এর আগে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘গাজা ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের জন্য গন্তব্য খুঁজে বের করতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইসরায়েল।’ তবে এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন তিনি।










