তার পরও অর্থ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বিশেষ করে মিলেনিয়াল ও জেনজি প্রজন্মের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাডওয়ার্ড জোনস ও জরিপ সংস্থা গ্যালাপের এক যৌথ গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ হাজার ৭৫ জন মার্কিন নাগরিকের মতামত নেয়া হয়। খবর ফরচুন।

জরিপে দেখা গেছে, ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নিজেদের আর্থিকভাবে সন্তুষ্ট বা পরিপূর্ণ মনে করে। অন্যদিকে ৮৩ শতাংশ মানুষ অর্থনৈতিক চাপ, উদ্বেগ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে এসব মানুষের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতন বলতে সাধারণত বছরে ১-৫ লাখ ডলার আয় করাকে বোঝায়।

গবেষণায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১ শতাংশকে ‘দ্বিধাগ্রস্ত’ বা ‘কনফ্লিকটেড’ শ্রেণীতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তারা আর্থিক সংকটে নেই, আবার নিজেদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়েও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী নন।

অ্যাডওয়ার্ড জোনসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার পেনি পেনিংটন জানান, আর্থিক চাপ এখন শুধু সংকটে থাকা মানুষের সমস্যা নয়। অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্থিতিশীল মনে হলেও ভেতরে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি অনুভব করছে।

অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকার তথ্য বলছে, বছরে দেড় লাখ ডলারের বেশি আয় করা অনেক পরিবারও মাস শেষে বেতননির্ভর জীবনযাপন করছে। এমনকি কিছু উচ্চ আয়ের মানুষও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে আর্থিক চাপে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাগজে-কলমে আর্থিক অবস্থা ভালো দেখালেও বাস্তবে অনেক মানুষ মানসিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছে না। অর্থ নিয়ে উদ্বেগ এখন শুধু আয় বা সম্পদের বিষয় নয়, এটি অনেকাংশে মানসিক অনুভূতির বিষয় হয়ে উঠেছে।

জেনজি প্রজন্মের অর্থবিষয়ক পরামর্শক নিয়্যা বাইয়েরোজু বলেন, ‘নিজেদের যারা আর্থিকভাবে অনিরাপদ মনে করেন, তাদের বেশির ভাগই বিল বকেয়া রাখেন না। বরং তারা সঞ্চয় করেন ও ঋণ এড়িয়ে চলেন। তার পরও তাদের মনে হয়, কিছু একটা ঠিক নেই।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদের জীবন দেখে অনেকেই নিজেদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি করেন। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘মানি ডিসমরফিয়া’। অর্থাৎ নিজের আর্থিক অবস্থাকে বাস্তবতার চেয়ে খারাপ মনে করা।

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ইনটুইট ক্রেডিট কারমার ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা যায়, জেনজি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের প্রায় অর্ধেক মানুষ আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে। অথচ তাদের অনেকের সঞ্চয়ের পরিমাণ গড়ের চেয়েও বেশি।

নিয়্যা বাইয়েরোজু জানান, তিনি প্রায়ই এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করেন যাদের আয় অনেক বেশি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের বিলাসবহুল জীবন দেখে তারা নিজেদের দরিদ্র মনে করতে শুরু করে।

কারো নিউজফিডে দেখা যায় মানুষ দ্বিতীয় বাড়ি কিনছে, প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণ করছে বা দামি ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করছে। এসব দেখে অন্যরা মনে করে তারা যথেষ্ট সফল না।

আবার কেউ কেউ এতটাই হতাশ হয়ে পড়েন যে সঞ্চয়ের আগ্রহই হারিয়ে ফেলে। তারা ভাবে, যেহেতু অন্যদের মতো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই সঞ্চয় করে লাভ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে আর্থিক স্বস্তি শুধু আয়ের ওপর নির্ভর করছে না। বরং মানুষের মানসিক অবস্থা, অতীত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক তুলনার প্রবণতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে উচ্চ আয় থাকলেও অনেক তরুণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অনুভূতি পাচ্ছেন না।