ইরানে নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনীর মৃত্যুর প্রথমবার্ষিকী ঘিরে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। গতকাল শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে ঘোষণা এসেছে। খবর রয়টার্স।

ইসলামিক রিপাবলিকের বাধ্যতামূলক পোশাক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাশা মারা যান। এরপরের কয়েক মাস সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ইরান। ওই ঘটনার বার্ষিকীকে সামনে রেখে দেশটিতে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

নতুন এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় মাশা আমিনীর মৃত্যুর পর বিক্ষোভের দমনে সহিংস ব্যবস্থার উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, গত বছর ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে থাকাবস্থায় মাশা আমিনীর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ইরানের বিক্ষোভের ‘সহিংস দমনের’ সঙ্গে যুক্ত ২৪ জনের বেশি ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই নিষেধাজ্ঞায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ ১৮ সদস্য ও ইরানের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী বা এলইএফ, সেইসঙ্গে ইরানের কারাগার সংস্থার প্রধানসহ ২৯ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তারা ইরানের ইন্টারনেট অবরোধের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম আউটলেটকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ব্রিটেন পৃথকভাবে তেহরানের বাধ্যতামূলক হিজাব আইন প্রয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন ইরানি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে তাদের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামিক দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী, তার ডেপুটি, তেহরানের মেয়র ও ইরানি পুলিশের একজন মুখপাত্র।

এদিকে রাশিয়ার কাছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অভিযোগে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখবে জানিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। মাশা আমিনীকে কেন্দ্র করে দিয়া নিষেধাজ্ঞার আগের দিনই এ ঘোষণা আসে।