শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনই ‘শান্তি স্থাপন’ না করলে আরো বিস্তৃত ও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

কিন্তু তিনি ‘শান্তি’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি। কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা কূটনৈতিক পথের দিকনির্দেশনাও দেননি। বরং ভাষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবার বলেন, ইরান যদি প্রতিশোধ নিতে চায়, তাহলে তারা শক্তিশালী জবাব পাবে।

রোববার সকালে ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

ট্রাম্পের এই শান্তির ব্যাখা খুঁজতে গিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন বলছে, প্রথমদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিলেন। এমনকি ইসরায়েলের হামলার আগেও তিনি ইরানের সঙ্গে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

তবে ইসরায়েলের একের পর এক হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুদ্ধবিরতির মতো কিছু চাই না। আমি চাই শেষ—সত্যিকার শেষ। না হলে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ।’ পরে সেদিনই তিনি ট্রুথ সোশ্যালে বড় হরফে লিখেন: আনকন্ডিশনাল স্যারেন্ডার— অর্থাৎ ‘নিশর্ত আত্মসমর্পণ’।

এর পর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইরানকে দুই সপ্তাহ সময় দেবেন—এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শনিবার রাতে তিনি ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন। এ হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাতে যুক্ত হলো।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ঠিক কী ধরনের ‘শান্তি’ চান, তা অনিশ্চিত। সিএনএন বলছে, ট্রাম্পের শান্তির মানে তিনটি হতে পারে-

একটি নতুন পরমাণু চুক্তি, আলোচনার দরজা খোলা রেখে কূটনৈতিক সমাধান, নতুবা ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ?