ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬-তে পৌঁছেছে। এতে নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ সেনা সদস্যসহ শতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে ২৬টি মৃতদেহ সিকিম থেকে ও ৩০টি পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে ও রয়টার্স।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় তিস্তা উপত্যকার অন্তত ১ হাজার ১৭৩টি বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ২ হাজার ৪২৩ জনকে এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার থেকে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। টানা বর্ষণে পরদিন ভোরের দিকে সিকিমের দক্ষিণ লোকন হ্রদের পানি বেড়ে তা তিস্তায় মিশে যায়। এতে উপত্যকা অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েন তিন হাজারেরও বেশি পর্যটক। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজে করে তাদের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় তা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন ও চুংথুং এলাকায় থাকা প্রায় দুই হাজার পর্যটক নিরাপদে আছেন। এছাড়া তারা যেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন, সেজন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্যাটেলাইট ফোন সরবরাহ করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব ভিবি পাঠক বলেছেন, ‘‌আমরা আবহাওয়ার অবস্থার উন্নতির জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিমান বাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল বন্যা কবলিত এলাকায় যেতে পারবে না।’

সরকারি কর্মকর্তা আরো জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে অন্তত ১৩টি সেতু ভেসে গেছে। এছাড়া সিকিমকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও ভেঙে পড়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার লোকজন ও পর্যটকদের উদ্ধার, ত্রাণ তৎপরতা ও পুনর্বাসন নিয়ে গত শুক্রবার রাজ্যপ্রশাসনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। সে বৈঠকে যত দ্রুত ও যতখানি সম্ভব সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ইন্ডিয়া মেটেওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সিকিমের উঁচু ও পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় আরো পাঁচদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। মেঘলা ও বর্ষণমুখর আবহাওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সিকিমের বেশির ভাগ পর্যটন স্পট এসব পার্বত্য এলাকায়ই অবস্থিত।

নেপাল, ভুটান ও চীনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভারতের ছোট্ট বৌদ্ধ রাজ্য সিকিম। নান্দনিক এ রাজ্যে সাড়ে ছয় লাখ মানুষের বসবাস।