অতর্কিত হামলায় ইসরায়েলের জানমালে
ব্যাপক ক্ষতির পর হামাস দাবি করেছে, তারা জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অন্যদিকে গাজা
উপত্যকাকে উষর মরুতে বদলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এ ঘোষণায় সমর্থন দিয়েছে বাইডেন
প্রশাসনসহ ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররা। তাতে এ সংঘাত একটি চূড়ান্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির
দিকেই এগোচ্ছে।
হামাসকে বরাবরই সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এ আক্রমণে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সংগঠনগুলোকে
এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের
পর স্বভাবতই সাম্প্রতিক হামলায় তেহরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি
ব্লিংকেন জানান, তারা এখনো সরাসরি ইরানের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি। তবে হামাসের সঙ্গে
ইরানের সম্পর্ক নিয়ে তাদের কোনো অস্পষ্টতা নেই।
ব্লিংকেনের দেয়া এক টিভি সাক্ষাৎকারকে
উদ্ধৃত করেছে বিবিসি। যেখানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়।
হামাস ইরানের সমর্থন ছাড়া এভাবে টিকে থাকার কথা নয় যদিও আমরা এরকম সরাসরি কোনো প্রমাণ
পাইনি। তবে হামাসের প্রতি ইরানের সমর্থন স্পষ্ট।
অবশ্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন
হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরানও। এ সংবাদ দিয়েছে আলজাজিরা।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে,
ফিলিস্তিনের প্রতি দৃঢ় সমর্থনে আমরা অটল রয়েছি। তবে আমরা ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়ার
সঙ্গে জড়িত নই। এটি শুধু ফিলিস্তিনিরাই করেছে।
আরো বলা হয়েছে, অবৈধ ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা সংঘটিত সাত দশকের নিপীড়নমূলক দখলদারিত্ব ও জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বৈধ।"
গত শনিবার ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন
হামলার পর গতকালও পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষ। দুই দিন ধরে চলা সংঘাতে
উভয়পক্ষে নিহতের সংখ্যা ১১০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সাত শতাধিক ইসরায়েলি এবং চার শতাধিক
ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। পৃথকভাবে উভয় পক্ষেই আহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলে
নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন সেনাসদস্য।










