গাজা উপত্যকা থেকে হামলা শুরুর ২৪ ঘণ্টা পরও লড়ছে হামাস-ইসরায়েলি বাহিনী। ওই একদিনের হামলায় দুইপক্ষের প্রায় ৫০০ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার। ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন দেখল অঞ্চলটি। খবর রয়টার্স।

এ লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ যোগ দিয়ে লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে হামলা শুরু করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলছে, ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে ‘সংহতি’ জানাচ্ছে তারা।

ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ও সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহ পোস্টে গোলা ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গাজা থেকে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলাকে ওই অঞ্চলকে ঘিরে মার্কিন-সমর্থিত নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

গতকাল ভোরে আতর্কিত হামাস যোদ্ধারা গাজা থেকে দক্ষিণ ইসরায়েলে কয়েক হাজার রকেট নিক্ষেপ করে।

ছবি: রয়টার্স

গাজা উপত্যকায় প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির বাস। জবাবে ওই অঞ্চলে দ্রুত হামলা করে ইসরায়েল। হামাস যোদ্ধারা শনিবার ও রবিবার জুড়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫০ ইসরায়েলিকে হত্যা করে এবং কয়েক ডজন জিম্মি নিয়ে গাজায় ফিরে যায়। অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলা গাজার ২৫০ এর বেশি বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

একজন ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, আজ গাজার আশপাশের আটটি এলাকায় অভিযান চলছে। স্থানীয় আল হাদাথ টিভি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টকে উদ্ধৃত করে জানায়, গাজার বেত হানুন জেলায় দুটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত ২৫৬ বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে ২০ শিশু রয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছে।উত্তর সীমান্ত থেকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ একটি বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ইসরায়েল-অধিকৃত শেবা ফার্মে একটি রাডার স্থাপনাসহ তিনটি পোস্টে রকেট ও গোলা হামলা চালিয়েছে। যা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকলেও লেবানব নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।

ছবি: রয়টার্স

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি অভিযান বেড়েছে। সড়কে ও নিজেদের গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ দেখেছে ফিলিস্তিনিরা। এবার আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডান সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনিদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠা থমকে আছে। এর মাঝে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা থেকে আক্রমণ পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে। এর সঙ্গে একে একে যুক্ত হচ্ছে অন্য সশস্ত্র দলগুলো।