চলমান বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা
অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ আরো বেশি নারী ও মেয়ে চরম দারিদ্র্যে পতিত হবে। গতকাল
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সতর্ক করে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ সংখ্যা হবে ৩৪ কোটিরও বেশি,
যা মোট নারীর আনুমানিক ৮ শতাংশ। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
ইউএন উইমেনের নতুন এক প্রতিবেদনে এসব
তথ্য দেয়া হয়। যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রেক্ষাপটে লিঙ্গ সমতা ও নারীর
ক্ষমতায়নের ঘাটতি সম্পর্কিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের
দারিদ্র্য দূর করা এর সার্বজনীন এজেন্ডা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচেষ্টা সত্ত্বেও
লিঙ্গ সমতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ব। শ্রমের ক্ষেত্রে পুরুষদের প্রতি ডলারের বিপরীতে
নারীরা আয় করেন মাত্র ৫১ সেন্ট।
যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে,
তাহলে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মহিলা মাঝারি বা গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন
হবেন।
বর্তমান প্রবণতা অনুসারে, পরবর্তী প্রজন্মের
নারীরা পুরুষদের তুলনায় অবৈতনিক পরিচর্যা ও গৃহকর্মে প্রতিদিন গড়ে ২ দশমিক ৩ ঘণ্টা
বেশি ব্যয় করবে।
প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো জলবায়ু
পরিবর্তনের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ জলবায়ু
পরিবর্তন ১৫ কোটি ৮৩ লাখ নারী ও মেয়েকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। যা পুরুষ
ও ছেলেদের মোট সংখ্যার চেয়ে এক কোটি ৬০ লাখ বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খাদ্য
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে ১৩ কোটি ১০ লাখের বেশি পুরুষ ও ছেলে। অন্যদিকে নারী ও মেয়েদের
ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ২৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে সংঘাত-আক্রান্ত
প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েদের সংখ্যা ৬১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০১৭ সালের সংখ্যার
তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
বর্তমান প্রবণতা অনুসারে ২০৩০ সাল নাগাদ
আনুমানিক ১১ কোটি মেয়ে ও তরুণী স্কুলের বাইরে থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে
লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন অর্জনের জন্য প্রতি বছর অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি ডলার
প্রয়োজন।










