ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী কভারেজের জন্য
এক ফটোসাংবাদিককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমারের আদালত। ফটোগ্রাফার সাই জাও
থাইকে অনলাইন নিউজ সার্ভিস মিয়ানমার নাউয়ের কর্মী। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু
চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে আটক রয়েছেন অনেক
সাংবাদিক।
লাইন্সেস বাতিল হওয়ায় বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ড
সংবাদমাধ্যম হিসেবে কাজ করছে মিয়ানমার নাউ। গতকাল বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাই জাও থাইকের
সাজা ঘোষিত হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে আটক হওয়ার পর একটি সামরিক ট্রাইব্যুনাল
প্রথম শুনানিতে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়।
থাইকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ
আনা হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ, ভীতি সৃষ্টি, মিথ্যা খবর ছড়ানো ও সরকারি
কর্মচারী বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন উস্কে দেয়া। তবে সাজা ও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট
বিবরণ দিতে পারেনি মিয়ানমার নাউ।
মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের
ইনসেইন কারাগারে রয়েছেন এ ফটোসাংবাদিক। আটকের পর থেকে সাই জাও থাইকে পরিবারের দেখা
পাননি। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেয়া হয়নি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয় সংস্থা রিপোর্টার্স
উইদাউট বর্ডার্স গত এপ্রিলে জানায়, বিশ্বে চীনের পরই কারাগারে বেশি সাংবাদিক রয়েছে
মিয়ানমারে। ২০২৩ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে মিয়ানমারের
অবস্থান ১৭৬।
সাই জাও থাইকে গত ২৩ মে রাখাইনের রাজধানী
সিত্তে থেকে গ্রেফতার হন। এর এক সপ্তাহ আগে উপকূল আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় মোখা। যাকে
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঝড়ের আঘাতে রাখাইন রাজ্যে অন্তত ১৪৮
জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অনেকেই আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গা।
ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ভবন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিটেনড
জার্নালিস্ট ইনফরমেশন অনুসারে, মিয়ানমার নাউসহ অন্তত ১৩টি মিডিয়া আউটলেটের লাইসেন্স
বাতিল করেছে জান্তা সরকার। কমপক্ষে ১৫৬ সাংবাদিককে গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের মধ্যে এখনো
প্রায় ৫০ জন আটক রয়েছেন। আটকদের প্রায় অর্ধেক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ও সাজা খাটছেন।
আটক অবস্থায় অন্তত চার গণমাধ্যমকর্মী
নিহত ও অন্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মিয়ানমার নাউয়ের গ্রেফতার সাংবাদিকের
মধ্যে দ্বিতীয় সাই জাও থাইকে। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিডিও সাংবাদিক কে জোন
নওয়েকে আটক করা হয়। তিনি ইয়াঙ্গুনে একটি অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ কভার করছিলেন।
চার মাস জেলে থাকার পর সাধারণ ক্ষমার অধীনে তিনি মুক্ত হন।










