কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র
নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে দ্বিতীয়টিকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা
করছে জাপান। খবর বিবিসি ও সিএনএন।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনার
বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য বিনিময়ে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা
ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পিয়ংইয়ং গতকাল রোববার (১৭ ডিসেম্বর) জানায়,
তারা ‘আরো আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। এছাড়া একইদিন দক্ষিণের বুসান বন্দরে নোঙর
করে পরমাণু চালিত মার্কিন একটি সাবমেরিন।
গতকাল রাতে স্বল্প-পাল্লার ও আজ সোমবার
সকালে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পদক্ষেপের জবাব দিয়েছে
পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানি কর্মকর্তারা
বলেছেন, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটি সনাক্ত করেছে। জাপানের
হোক্কাইডোর পশ্চিমে সাগরে অবতরণের আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭৩ মিনিটে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার
ভ্রমণ করে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক
মূল্যায়ন অনুসারে, আজ সকালে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায়
আঘাত হানতে সক্ষম।
টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানি প্রতিরক্ষা
উপমন্ত্রী শিঙ্গো মিয়াকে বলেন, আইসিবিএম-শ্রেণীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির রেঞ্জ
১৫ হাজার কিলোমিটার বা নয় হাজার ৩২০ মাইল হতে পারে। যার অর্থ হলো পুরো যুক্তরাষ্ট্র
এ আওতায় থাকবে।
যদি আইসিবিএম হয়, তবে এটি হবে চলতি
বছরে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এ ধরনের পঞ্চম ক্ষেপণাস্ত্র।
গত মাসে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন
করে পিয়ংইয়ং সফলভাবে কক্ষপথে গুপ্তচর উপগ্রহ স্থাপন করে। তখন উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় সিউল একটি সামরিক চুক্তি আংশিকভাবে স্থগিত করে।
জবাবে চুক্তি থেকে নিজেদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয় পিয়ংইয়ং, পাশাপাশি নিরস্ত্র
এলাকায় সেনা পাঠায়।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম তাই-হিও বলেছিলেন, ডিসেম্বরের কোনো এক সময়ে উত্তর কোরিয়া আইসিবিএম
ছুড়তে পারে।
অবশ্য এটি কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, তা
এখনো স্পষ্ট নয়। গত এপ্রিলে প্রথম সফল উৎক্ষেপণের পর শেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করে
জুলাইয়ে।










