ইরানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সেখানে অধ্যয়নরত কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে শত শত শিক্ষার্থী এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে ভারত শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

সম্প্রতি ইরানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (জেকেএসএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে থাকা ১ হাজার ৯৫০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জনই কাশ্মীরের বাসিন্দা। এরই মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন নিজ দেশে ফিরেছেন। তবে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে আসতে দ্বিধাবোধ করছেন।

২৩ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী আহনাফ ইসহাক তাদেরই একজন। তিনি ২০২৩ সালে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক মিলের টানে ইরানে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, বর্তমানে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং যাতায়াত সমস্যার কারণে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। যদি তারা এখন কোর্স শেষ না করে চলে যান, তবে ভারতের মেডিকেল রেগুলেটরদের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ ভারতে মেডিকেল ডিগ্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া বাধ্যতামূলক।

কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশের উচ্চশিক্ষা কেবল বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তা। ভারতে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বেসরকারি কলেজগুলোর খরচ অনেক বেশি। একটি ডিগ্রির জন্য সেখানে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। এছাড়া ভারতের অন্যান্য রাজ্যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নানা বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এ কারণে তারা ইরান বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে বেছে নেন।

আগে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তান একটি বড় বিকল্প ছিল। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে পাকিস্তান থেকে নেয়া ডিগ্রি ভারত সরকার নিষিদ্ধ করায় সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আসন সংকটের কারণে ভর্তির হার প্রায় ২০-২৫ শতাংশ কমে গেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এ সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে।