যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই লেবাননের সশস্ত্র দল হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার (২৫ নভেম্বর) চারজন শীর্ষ লেবানিজ সূত্র এ কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, আমরা প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তবে সবকিছু সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কথা বলা যায় না। খবর রয়টার্স।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছে যে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জেরুজালেমে, একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের জন্য বৈঠক করবে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গেলেও ইসরায়েলের বিমান বাহিনী বৈরুতের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ উপকণ্ঠে ব্যাপক বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রায় এক বছর ধরে লেবানন সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, ইসরায়েল এবং লেবানন চুক্তির বিষয়গুলোতে একমত হওয়া নিয়ে কোনো প্রতিবেদনে মন্তব্য করবে না তারা। তবে ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি ওই চুক্তি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ইসরায়েলে জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, চুক্তিতে যাই থাকুক না কেন, ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর ক্ষমতা বজায় থাকবে।

বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। তবে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এখনো কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান তিনি। মিলার বলেন, অনেক সময় একটি চুক্তির একেবারে শেষ ধাপগুলোই সবচেয়ে কঠিন হয় কারণ, সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো শেষের দিকে রেখে দেয়া হয়। আমরা যতটা সম্ভব জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

লেবাননের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এলিয়াস বউ সাব রয়টার্সকে বলেছেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো গুরুতর বাধা অবশিষ্ট নেই, যদি না নেতানিয়াহু তার মন পরিবর্তন করেন। তিনি জানান, এই প্রস্তাবের আওতায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং নিয়মিত লেবানিজ সেনা ৬০ দিনের মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে।