মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন যে, আরব রাষ্ট্রগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখলে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর রয়টার্স।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে আবদেলাত্তি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজাতেই থাকাকালীন দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।
বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেয়া বিবৃতিতে ট্রাম্পের পরিকল্পনার উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, গাজার শাসন ও নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কো রুবিও। সে সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন যে, হামাস কখনোই গাজার শাসক হতে পারে না বা ইসরায়েলকে হুমকি দিতে পারে না।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, আবদেলাত্তি নতুন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যাতে অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়।
তিনি মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি একই ধরনের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা গাজাকে তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়। তাই গাজা ছেড়ে যাওয়ার যে কোনো পরামর্শ কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোও ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ট্রাম্প প্রথম ২৫ জানুয়ারি প্রস্তাব করেছিলেন যে, মিশর ও জর্ডানকে গাজার ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করা উচিত। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গাজা দখলের এবং ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করার প্রস্তাব দেন, যেখানে তাদের ফিরে আসার কোনো অধিকার থাকবে না। এ প্রস্তাবের পর তুমুল সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প।
তার এই মন্তব্যে ফিরে এসেছে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা যে, তারা স্থায়ীভাবে তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হতে পারেন। মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ এই পরিকল্পনাকে জাতিগত নির্মূলকরণের প্রস্তাব হিসেবে অভিহিত করেছে।










