জর্ডানের জেরাশ শহরে একটি প্রাচীন গণকবরের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যা বিশ্বের প্রথম নথিভুক্ত মহামারী সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণা দল এ গণকবর শনাক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শতাব্দীতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটানো ‘জাস্টিনিয়ান প্লেগ’ সম্পর্কে নতুন ও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গত ফেব্রুয়ারিতে ‘জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স’-এ এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, জর্ডানের এ আবিষ্কার সেই সময়ের মানুষের চলাচল, নগরজীবন ও মহামারীর ভয়াবহতা বোঝার জন্য একটি বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আধুনিক জর্ডানের জেরাশ এলাকায় অবস্থিত এ গণকবর কোনো সাধারণ কবরস্থান নয়। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি একটি বিশেষ সময়ের ‘গণদাফন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে’, যেখানে মহামারীতে মৃত অসংখ্য মানুষকে একসঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল।
গবেষক দলটি গত বছরই নিশ্চিত করেছিল যে ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামক একটি জীবাণু এ মহামারীর মূল কারণ ছিল। এবারের গবেষণায় মূলত আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহযোগী অধ্যাপক রেস জিয়াং বলেন, ‘আগে শুধু মহামারীর জীবাণু সম্পর্কে জানা গিয়েছিল। কিন্তু জেরাশের এ স্থান সেই জেনেটিক সংকেতকে একটি মানবিক গল্পে রূপান্তর করেছে। এর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, কারা মারা গিয়েছিল এবং একটি শহর কীভাবে সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল।’
জেরাশ ছিল সে সময়ের একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ৫৪১ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা এ মহামারীর অন্যতম কেন্দ্রস্থল। গবেষকরা জানান, প্রাচীন এ গণকবর থেকে ২০০-এর বেশি মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ ছিল। ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে অনেকে ছিল ভ্রাম্যমাণ বা বিদেশী, যারা ব্যবসার কাজে বা অন্য প্রয়োজনে সেখানে এসে আটকা পড়েছিল। এটি বর্তমানের করোনা মহামারীর সময় চলা লকডাউন বা যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।
অধ্যাপক জিয়াং আরো বলেন, ‘অনেক ইতিহাসবিদ মনে করতেন, জাস্টিনিয়ান প্লেগ আসলে খুব বড় কোনো ঘটনা ছিল না। কারণ এর আগে তেমন কোনো বড় গণকবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু জেরাশের এ আবিষ্কার প্রমাণ করে মহামারীটি সত্যিই ভয়াবহ ছিল। যদিও এর ফলে কোনো শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মানুষের মৃত্যু যে ব্যাপক ছিল, তার অকাট্য প্রমাণ এখন আমাদের হাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীনকালের মহামারীগুলো মূলত জনবহুল শহর এবং মানুষের যাতায়াত বেশি ছিল সেখানেই বেশি ছড়িয়েছিল। জর্ডানের এ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এখন ইতিহাসের সেই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের সাক্ষী।










