দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশটির নাগরিকরা। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট পাঁচটি রাজনৈতিক দল ও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্টদের আশা, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ এবং পিপিএম অ্যান্ড পিএনসি-পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী ড. মোহামেদ মুইজ্জুর মধ্যে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত ও চীন। মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলিহ ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ভারত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।
অন্যদিকে সোলিহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজধানী মালের সাবেক মেয়র মোহামেদ মুইজ্জু কট্টর চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাকে ইন্ডিয়া আউট নীতির সমর্থক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তিনি ভোটে জিতলে দ্বীপরাষ্ট্রটি থেকে ভারতের সামরিক ঘাঁটি উচ্ছেদ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ইব্রাহিম সোলিহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলীয় নেতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের। কিন্তু গত ডিসেম্বরে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ১১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ফলে তার দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহামেদ মুইজ্জু।
প্রধান এ দুই প্রার্থীসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট আট প্রার্থী। তারা হলেন কাসিম ইব্রাহিম (জুমহুরী পার্টি), ইলিয়াস লাবিব (দ্য ডেমোক্র্যাট), মোহাম্মদ নাজিম (মালদ্বীপ ন্যাশনাল পার্টি), উমর নাসির (স্বতন্ত্র), হাসান জমিল (স্বতন্ত্র) ও ফারিস মাউমুন (স্বতন্ত্র)।
ছোট-বড় ১৮০টি দ্বীপ নিয়ে মাত্র ৩০০ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। দেশটির মোট ৫ লাখ ২১ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৭ জন। নির্বাচনে মোট ৫৭৪টি বুথে ভোট গ্রহণ হয়েছে, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশ ছিল রাজধানী মালেতে। দেশটির আইন অনুযায়ী কারাবন্দিরাও ভোট দিতে পারেন। মূল ভূখণ্ডের বাইরেও যেসব এলাকায় মালদ্বীপের নাগরিকদের বসবাস বেশি যেমন ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিভান্দ্রুমসহ শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানীতে ভোট প্রদানের সুযোগ ছিল।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে যদি কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে দ্বিতীয় দফায় গড়াবে নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে প্রথম দফার নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। এদিকে এ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন অব মালদ্বীপ (ইসিএম)। ইসিএম সভাপতি ফুওয়াদ তৌফিকের এ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বর্তমানে মালদ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের তিন সদস্যের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল।










