অভিবাসী নীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই কঠোরতা দেখিয়ে এসেছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয় তিনি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। ট্রাম্প গণহারে অভিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে অভিবাসী ইস্যুটি বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে কড়া নজর রাখছেন সীমান্ত কর্মকর্তারা। অন্যদিকে অভিবাসীপ্রত্যাশীরা নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছেন। এ অবস্থায় জনসাধারণের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীপ্রত্যাশীদের আশা কি বন্ধ হবে? খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় থাকেন ৩১ বছর বয়সী ভেনিজুয়েলীম ডেলিভারি কর্মী ড্যানিয়েল গার্সিয়া। রোববার তার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাত্রা করার কথা ছিল, অর্থাৎ তিনি অভিবাসীপ্রত্যাশী। এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আর তার যাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তিনি নিশ্চিত নন যে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারবেন কিনা। আর যদি পৌঁছেও থাকেন, তখন ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কী করবে? সব বিচার করে গার্সিয়া কলম্বিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ যাত্রায় সব মিলিয়ে ব্যয় হতো ২ হাজার ৫০০ ডলার, যা সারা বছরের সঞ্চয়। তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি বেশ বড় বিনিয়োগ। আমি ঝুঁকি না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ গার্সিয়া একা নন, অভিবাসীপ্রত্যাশী তার মতো আরো অনেকেই আছেন। তারা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে সীমান্ত কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিকে কড়া নজর রাখছেন।

জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে অভিবাসীপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চাপ বাড়তে পারে। সে হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছে মেক্সিকোয় মানবিক সহায়তা গ্রুপ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা।

বহুজাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ পিপল উইদাউট বর্ডার্সের মেক্সিকো পরিচালক ইরিনিও মুজিকা বলেন, ‘এ মুহূর্তে মেক্সিকোয় যারা আছেন, তাদের অধিকাংশই সীমান্তে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। দরজা অবশ্যই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও এর জন্য অনেকে চেষ্টা করবেন। তবে তা বাস্তবে পরিণত হবে কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য গঠিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক পাচারকারী বলেন, ‘এখনো সময় আছে।’ গ্রুপটিতে অভিবাসীপ্রত্যাশীর সংখ্যা চারশতাধিক বেশি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়া মানেই তারা আইনি বা বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। যদি কোনোভাবে যাত্রা সম্পন্ন করতেও পারেন, তবে তারা মনে করছেন পরবর্তী পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর হবে না।

বাইডেন প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন রেকর্ড স্তরে পৌঁছায়। ভেনিজুয়েলা ও একুয়েডরের মতো দেশগুলোয় দারিদ্র্য ও সংঘাতের কারণে এমনটা হয়েছে। বিশেষ করে ভেনিজুয়েলা থেকে আসা অনেক অভিবাসী বিশ্বাস করেন যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাদের দেশের জন্য বিশেষ সীমান্ত প্রবেশের নীতি তৈরি করেছেন। ২০২২ সালে সীমান্তে অভিবাসী পারাপারের সংখ্যা পৌঁছায় ২২ লাখে।

সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে পারাপারে ধীরতা দেখা গেছে। কারণ বাইডেন প্রশাসন নিয়ম ও রুট কঠোর করতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করেছে। পাশাপাশি বৈধ প্রবেশের কর্মসূচি বিস্তৃত করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বাইডেনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, এগুলো খুবই নমনীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পারাপারের সময় ধরা পড়া ব্যক্তির সংখ্যা কমেছে। কয়েক হাজার অভিবাসীপ্রত্যাশী এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পথে যাত্রা করেছেন। আরো অনেকে আছেন, যারা অভিবাসনের পরিকল্পনা নিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট যিনিই হোন না কেন তারা তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।