সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর হাতে তুরস্কের একটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের শীর্ষ কূটনীতিকরা আলোচনা করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ড্রোনটি বিপজ্জনকভাবে সিরিয়ায় তাদের স্থল বাহিনীর কাছাকাছি চলে এসেছিল। এদিকে আঙ্কারা থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় একটি ড্রোন হারিয়েছে। খবর বিবিসি।
ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে ফোনালাপের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান যুক্তরাষ্ট্রকে বলেন, ‘তুরস্ক কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করা অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনীকে সহযোগিতা করলেও তুরস্ক তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দেখে।’
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনারা তুরস্কের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে।
ফিদান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে জানান, ইরাক ও সিরিয়ায় তুরস্কের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্লিংকেন দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও কার্যক্রমের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সিরিয়ায় তুরস্কের একটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ন্যাটোর দুই মিত্রের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় প্রায় ৯০০ মার্কিন সেনা সক্রিয় অভিযানে রয়েছে।
তুরস্ক আঙ্কারায় তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে, যার দায় স্বীকার করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিকেকেকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু তুরস্ক পিকেকে ও ওয়াইপিজিকে দুটি দল একইভাবে দেখে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের অংশ হিসেবে ওয়াইপিজির সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে। ব্লিনকেন ও ফিদানের মধ্যে ফোনালাপের পর তুরস্ক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়।










