ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়া নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, তারা নাবাতিহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক বুফোর্ট দুর্গ দখল করেছে। এটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলের বড় অনুপ্রবেশ।
ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ধীরে হলেও সঠিক পথে এগোচ্ছে। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হবে—ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই ইরানের সামরিক কাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনী ভেঙে দেয়ার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় থাকা প্রাথমিক খসড়ায় বেশ কয়েকটি সংশোধনী আনার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনার খবরও সামনে এসেছে। তবে এ ধরনের কিছু তথ্যকে হোয়াইট হাউস ভিত্তিহীন বলেছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির ভূখণ্ডে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো কঠোর হবে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ফার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে এক অনুষ্ঠানে নতুন নৌ-হামলাকারী যান ‘২৭ রজব’ উন্মোচন করেছে ইরান। দেশটির দাবি, এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান আরো বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবাতিহ শহরের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক বুফোর্ট ক্যাসেল বা কালাত আল-শাকিফ দখলের দাবি করেছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে জাহরানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আল জাজিরার আরবি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকালে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, বুফোর্ট রিজ ও ওয়াদি আল-সালুকি এলাকায় বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পদাতিক বাহিনী মোতায়েন করে সম্মুখ প্রতিরক্ষা লাইন বিস্তৃত করা হচ্ছে এবং বাহিনী এরইমধ্যে লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। শনিবারের সংঘর্ষে ইসরায়েলের এক সেনাসদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পোড়ামাটি নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, স্থল অভিযান সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি ইউএস-ইসরায়েল সামরিক একীকরণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে দুদেশের সহযোগিতা আরো গভীর হতে পারে।
-আল-জাজিরা অবলম্বনে










