মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরি ও ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরেশোরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনার খবর আসার পরও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তা এ অঞ্চলে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। খবর বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হবে। তেহরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি বলেছেন, আলোচনার জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। তবে আলোচনার টেবিলে এ অগ্রগতি সত্ত্বেও উত্তাপ কমেনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন থামাতে হবে। অন্যথায় সামরিক হস্তক্ষেপের পথ খোলা থাকবে।

আঞ্চলিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে।’

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি কেবল ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘ইরানি জাতি এসব হুমকিতে পিছু হঠবে না।’

উত্তেজনার এ চরম পর্যায়ে ইরান গতকাল থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়া শুরু করেছে। বিশ্বের মোট উত্তোলিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে কোনো ধরনের ‘অশোভন বা অপেশাদার’ আচরণ না করতে সতর্ক করেছে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অবস্থান করছে।

ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও প্রাণহানি

ইরানের এ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংকটের মূলে রয়েছে সম্প্রতি দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে নিহতের এ সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে খামেনি এ বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে এর পেছনে বিদেশী মদদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

রহস্যজনক বিস্ফোরণ ও আতঙ্ক

এদিকে আলোচনার খবর আসার মধ্যেই গত শনিবার ইরানের দুটি শহরে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বন্দর আব্বাসে একটি বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে আরেক বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘ ও আলোচনার আশার দোলাচলে দুলছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয় কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।