বিশ শতকের শুরুতে ফরাসি ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পী ক্লদ মোনে তার আঁকা ছবিতে লন্ডনের এক বিশেষ রূপ তুলে ধরেন, যা আজও মানুষকে মুগ্ধ করে। ধোঁয়াটে আবরণে ঘেরা থেমস নদীর প্রতিচ্ছবি তার তুলিতে যেন নতুন করে শহরটির পরিচয় করিয়ে দেয়। শিল্পের এমনই এক উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এখন কোর্টোল্ড ইনস্টিটিউটে চলছে। ‘মোনে অ্যান্ড লন্ডন: ভিউজ অব দ্য থেমস’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীতে অসাধারণ চিত্রকর্মগুলোকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

১৮৯৯ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে তিনবার লন্ডনে এসে মোনে প্রায় ১০০টি চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন। সেই সময়ে ধোঁয়া ও আলোর মধ্যে নানা পরিবর্তন ও সমাহারের ছবি আঁকতে গিয়ে থেমস নদীর উপরে কুয়াশার রহস্যময় পরিবেশকে ক্যানভাসে জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনি। লন্ডনের কুয়াশা সম্পর্কে মোনে নিজেই বলেছিলেন, লন্ডনের সৌন্দর্য মূলত এর কুয়াশায়। কুয়াশা না থাকলে শহরটি এত মোহনীয় হতো না।

1

মোনের বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে ‘দ্য হাউজেস অব পার্লামেন্ট’ ও ‘শ্যাফট অব সানলাইট ইন দ্য ফগ’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এতে থেমস নদীর ওপারে ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের স্থাপত্য সূর্যের আলোতে ঝলমল করে ওঠে। মোনে তার দ্বিতীয় লন্ডন ভ্রমণে সেন্ট থমাস হাসপাতালের বারান্দায় বসে দিনভর আলোর বিভিন্ন আভা ও কুয়াশায় মোড়ানো থেমস নদীকে চিত্রিত করেন। তার এই চিত্রকর্ম শুধু স্থাপত্য নয়, বরং আলোর পরিবর্তন ও ধোঁয়াশার শিল্পিত ব্যাখ্যা হয়ে ওঠে।

লেখক অস্কার ওয়াইল্ড এই আলোর অনন্যতায় মুগ্ধ হয়ে বলেন, কুয়াশার সৌন্দর্য আমাদের চোখে তুলে ধরেছেন শিল্পীরাই। তার আগ পর্যন্ত কুয়াশা আমাদের কাছে এমন সুন্দর কিছু ছিল না। একই সময়ে বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক যখন আলোকে শক্তির কোয়ান্টাম হিসেবে ব্যাখ্যা করছিলেন, তখন মোনে তার তুলিতে সেই আলোক ও কুয়াশার জগৎকেই এক নতুন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করছিলেন। তার ক্যানভাসে ধোঁয়ার আবরণ বাস্তবতা ও কল্পনার এক সীমারেখা হয়ে দেখা দেয়।

প্রদর্শনীতে এখন পর্যন্ত মোনের থেমস সিরিজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। কোর্টোল্ড ইনস্টিটিউটের এ আয়োজন লন্ডনকে তার ঐতিহ্য ও কুয়াশার মোহময়তায় নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করে। মোনের তুলিতে ধোঁয়া, আলো এবং লন্ডনের এক অন্য রকম পরিচয় দর্শকদের চোখে অবিস্মরণীয় হয়ে থেকে যায়।