মরিশাসের কাছে চাগোের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করার ব্রিটিশ পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে সম্প্রতি। এর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপপুঞ্জটি সরাসরি কিনে নেয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে।

তবে তার আগে দ্বীপপুঞ্জটিকে সার্বভৌম মর্যাদা দিতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনা করতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মরিশাসের কাছে দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের পূর্ববর্তী আইনগত উদ্যোগগুলো এপ্রিলে স্থগিত হয়ে যায়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনাধীন একাধিক বিকল্পের মধ্যে একটি মাত্র। সর্বশেষ এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং পরে তা ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়। তবে এটি বর্তমানে সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মরিশাসকে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ দেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র মরিশাসের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর আগে চাগোস রিফিউজি গ্রুপের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। প্রতিনিধি দলের নেতা লুই অলিভিয়ে ব্যাংকুল্ট শুক্রবার বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের অধিকার।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জনগণের জন্য কোনো সমাধান খুঁজে বের করার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছা নেই। আমাদের অবশ্যই একটি পথ বের করতে হবে।‘

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার সম্ভাব্য আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।

মধ্য ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে এবং সেখানের বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করা সম্ভব।