পশ্চিমা বিশ্বকে ‘‌মিথ্যার সাম্রাজ্য’ বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। নিউইয়র্কে গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ইউক্রেনকে বিজয়ী করতে পশ্চিমা দেশগুলো দল বেঁধে লড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খবর সিএনএন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে স্বভাবতই বেশ জোরেশোরে উঠে এসেছে ইউক্রেন ইস্যুটি। এ নিয়ে রাশিয়াকে একহাত নিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অন্য দেশগুলোকেও কাছে টানার চেষ্টা করেছেন তারা। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন লাভরভ। তার ভাষায়, ‘দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ পশ্চিমাদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে।’ 

ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত উসকে দেয়ারও অভিযোগ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অধীনরা দলবদ্ধভাবে সংঘাতের রসদ সরবরাহ অব্যাহত রাখছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বিশ্বকে তাদের নিজস্ব আত্মকেন্দ্রিক নিয়ম অনুযায়ী খেলতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেয়া ১০ দফা প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যানের কথা জানান লাভরভ। একই সঙ্গে কৃষ্ণ সাগর হয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানির চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে জাতিসংঘ যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটিও নাকচ করে দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘‌এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এটি কেন সম্ভব নয়, সেটি সবাই বুঝে গেছেন। অথচ তারা (পশ্চিমারা) বলছে, চুক্তিটিই হচ্ছে আলোচনার টেবিলে ফেরার একমাত্র পথ।’ ইউক্রেনের শস্য চুক্তি থেকে মস্কোর সরে আসা যৌক্তিক বলেও দাবি করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবাদ সম্মেলনে সের্গেই লাভরভের পুরো বক্তব্য ছিল মূলত আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে মস্কোর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে ইউক্রেন সংকটের প্রকৃত সমাধানের বিষয়টি জায়গা পায়নি।

জাতিসংঘের প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পশ্চিমারা মস্কোকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়ার একটি ব্যাংকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তারা বাতিল করেনি। বৈশ্বিক সুইফট সিস্টেমের সঙ্গেও পুনরায় সংযুক্ত করা হয়নি।

২০২২ সালের ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হয়। বিশ্ববাজারে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও সারের মতো সামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। করোনার অভিঘাত কাটিয়ে না উঠতেই এ যুদ্ধ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার জন্য উল্টো পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।