প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে তাদের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরিতে যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা সরিয়ে তার পছন্দের পুরোনো বাষ্পচালিত ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। খবর এপি।
এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক জাহাজগুলোকে এমন একটি ব্যবস্থায় ফিরতে হবে, যা পরিচালনার জন্য বেশি নাবিকের প্রয়োজন এবং রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক কঠিন।
প্রতিবেদনে জানান হয়, পেন্টাগন ও মার্কিন নৌবাহিনীকে দুই মাসের মধ্যে ট্রাম্পের কাছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম (ইএমএএলএস) সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ফোর্ড শ্রেণির বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্র-লিফটগুলোও প্রতিস্থাপন করতে হবে।
বিমানবাহী রণতরির ডেক থেকে যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত নতুন চৌম্বকশক্তিচালিত ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বহু বছর ধরেই সমালোচনা করে আসছেন। এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত এলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের কাঙ্ক্ষিত সব সরঞ্জামের জন্য কংগ্রেসের কাছ থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে এবং নৌবাহিনী পর্যাপ্ত নাবিক নিয়োগ ও জাহাজে তাদের পদ পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ অন্তত ২০১৭ সালে, তার প্রথম মেয়াদে, প্রকাশ্যে আসে। সে সময় টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, নতুন ব্যবস্থা ভালো নয় এবং পুরোনো বাষ্পচালিত ব্যবস্থার মতো ক্ষমতা নেই।
ট্রাম্প যখন প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখন চীনের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরিগুলোতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। ফ্রান্সও জানিয়েছে, তাদের নতুন বিমানবাহী রণতরিতে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে চূড়ান্ত নকশা করা একটি জাহাজে এত বড় ধরনের ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সহজ হবে না।
ইএমএএলএস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ই-মেইলে জানিয়েছে, ইউএসএস ডোরিস মিলারে এ ব্যবস্থা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি সতর্কতার সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, এখন এগুলো পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য ব্যয়, সময়সূচি এবং সমন্বয়সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে অনুমান করেছিলেন, যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় রিপাবলিকানরা সামরিক বাহিনী এবং হোয়াইট হাউসের অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে অর্থায়নের জন্য ৯৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ প্রস্তুত করছিলেন।
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এটি দ্রুতগতিতে বিমান উৎক্ষেপণ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি রক্ষণাবেক্ষণে তুলনামূলক সহজ, পরিচালনার জন্য কম নাবিকের প্রয়োজন এবং জাহাজে কম জায়গা ব্যবহার করে।
ইউএসএস ফোর্ডে ব্যবহৃত ইএমএএলএস ক্যাটাপল্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা প্রায় ১২ জন থেকে কমিয়ে দুইজনে এনেছে।
ফেব্রুয়ারিতে নৌবাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার প্রশংসা করে জানিয়েছিল।










