চীনে বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি মানুষের
সংখ্যা ২১ কোটির মতো। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ঋণাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ
করা দেশটিতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবীণদের এ সংখ্যা পৌছাঁবে ৪০ কোটির ঘরে। যা বর্তমান
১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে
বলা হয়, পরবর্তী দশকে বয়স্কদের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
যা কর্মক্ষম জনসংখ্যার ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা বাড়াবে।
২০২১ সালে দেশটিতে মানুষের গড় আয়ু ছিল
৭৮ বছরের বেশি ও ২০২২ সালে জন্মহার ছিল ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অপরদিকে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে
গড় আয়ু ছিল ৭৬ বছরের বেশি ও জন্মহার ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘায়িত জিরো কভিড নীতি শিথিল করা
হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন খাতে ধস, জন্মহার হ্রাস ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী দেশটির প্রবৃদ্ধির
অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, চীন একটি উচ্চ-মধ্যম
আয়ের দেশ ও অনেক মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক মানুষের জন্য দেশটির
পেনশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। এছাড়া তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও দুর্বল।
১৯৭০ সালের শেষের দিকে চীনে জনসংখ্যা
নিয়ন্ত্রণে এক-সন্তান নীতি চালু করা হয়। এর কারণে দম্পতিরা একাধিক সন্তান নিতে পারতেন
না। অন্যথা হলে বৈষম্যের শিকার হতেন।
২০১৬ সালে জন্মহার কমানোর পুরোনো ওই
নীতি বিলুপ্ত হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ তরুণ, উচ্চ-শিক্ষিত চীনারা সন্তান নিতে আগ্রহী
নন।
চীনে অর্থনীতির উন্নয়নের সমান্তরালে
শিক্ষিত নারীর সংখ্যা ও তাদের কাজের সুযোগ বেড়েছে। তাই তারা কম সন্তান নেয়ার রীতি
বেছে নিয়েছেন। দেশটিতে সন্তান নেই এমন দম্পতির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।










