সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বাশার আল-আসাদের সরকার পতনে নেতৃত্ব দেয়া আহমেদ আল-শারা। সিরিয়ায় বিদ্রোহের মাধ্যমে বাশার আল-আসাদ সরকারকে উৎখাত করার সাত সপ্তাহ পর এ ঘোষণা দেয়া হলো। খবর বিবিসি।
সিরিয়ার গণমাধ্যম সানা নিউজ এজেন্সি অনুসারে, বিদ্রোহী সামরিক কমান্ডার হাসান আবদুল ঘানি সিরিয়ার ২০১২ সালের সংবিধান বাতিল এবং পূর্ববর্তী শাসনের সংসদ, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আল-শারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইন পরিষদ গঠন করবেন, যা একটি নতুন সংবিধান অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত শাসন পরিচালনায় সহায়তা করবে। ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে আসাদের বিরোধিতা করা সব বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভেঙে দিয়ে সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একীভূত করা হবে বলেও জানান আল ঘানি।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দামেস্কে একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণাগুলো দেয়া হয়। সেখানে আল-শারার ইসলামী গ্রুপ হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোটের পাশে লড়াই করা গোষ্ঠীগুলোর কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল ‘সিরিয়ান বিপ্লবের বিজয় ঘোষণা সম্মেলন’।
সামরিক ইউনিফর্ম পরা কমান্ডারদের উদ্দেশে আল-শারা জোর দিয়ে বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন ‘কঠিন কাজ এবং বড় দায়িত্ব’। প্রথম অগ্রাধিকার হবে ক্ষমতার শূন্যতা একটি বৈধ এবং আইনি উপায়ে পূরণ করা। দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা রোধ করে নাগরিক শান্তি বজায় রাখা।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে সামরিক, নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ, এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে, আল-শারা আল-আরবিয়া টিভিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, প্রথমে একটি আধুনিক জনশুমারি প্রয়োজন হবে। যাতে সময় লাগবে, এবং একটি নতুন সংবিধান লেখা শেষ করতে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।










