দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ অঞ্চল আমহারায় ছয় মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইথিওপিয়া সরকার। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়া সদস্যদের মধ্যকার সংঘর্ষের পর পদক্ষেপটি নেয়া হলো। খবর রয়টার্স। 

গত নভেম্বরে শেষ হয় তাইগ্রে অঞ্চলে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ। তারপর এ সংঘাত দেশটিতে গুরুতর নিরাপত্তা সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত সপ্তাহে আমহারা অঞ্চলটিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমহারার আঞ্চলিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাড়তি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। এদিকে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটির সরকার যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার ও কারফিউ জারি করতে পারবে।

তাইগ্রেতে সংঘাতের সময় ফানো মিলিশিয়ারা ছিল ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর মিত্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার উদ্যোগ নিলে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। আমহারার শহর গোন্ডারের দুই বাসিন্দা শুক্রবার জানিয়েছেন, আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তীব্র লড়াই হয়েছিল। স্থানীয় কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামরিক বাহিনীর সরে যাওয়ার কথা বলেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আমহারায় তাদের নাগরিকদের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইথিওপিয়ার ১১টি অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীকে পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে একীভূত করতে আবি আহমেদ নির্দেশ দেয়ার পর এপ্রিলে আমহারাজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আমহারাকে দুর্বল করার জন্য এমন আদেশ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা।

অঞ্চলটিতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস আমহারার চারটি বিমানবন্দরের মধ্যে তিনটিতে ফ্লাইট বাতিল করেছে। ক্ষমতায় আসার পর আবি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করেছেন, যা প্রতিটি অঞ্চলে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। তাইগ্রে যুদ্ধের মূল ছিল আঞ্চলিক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা। পাশাপাশি জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও পুরনো।