পাকিস্তানের করাচিতে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালের এ দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন।
সিন্ধু প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সায়েদ গতকাল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১৩ জন। তবে স্বজনদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত আটজন আটকে থাকতে পারেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। তার আগে বাসিন্দারা ভবনে ফাটল ধরার শব্দ শুনেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি আগে থেকেই বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিকবার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে নোটিস পাঠানো হয়। তবে অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো নোটিস পাননি।
জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাভেদ নবি খোসো বলেন, ‘আমরা জোর করে কাউকে উচ্ছেদ করতে চাইনি। ধাপে ধাপে নোটিস পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু বাসিন্দারা সেগুলো আমলে নেননি।’
তবে বাড়ির মালিক ও বাসিন্দা ইমরান খাসখেলি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন আমরা পাগল যে পরিবার নিয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকব?’
তিনি আরো জানান, ধসের দিন সকালেই তিনি ভবনের পিলারে ফাটল দেখতে পান এবং দরজায় দরজায় গিয়ে সবাইকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে বলেন। তবে প্রায় ৪০টি পরিবার থাকা ওই ভবনে অনেকেই তার কথা আমলে নেননি।
জাভেদ খোসো আরো জানান, লিয়ারি এলাকায় এরই মধ্যে ৫০টির বেশি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ভবন এরই মধ্যে খালি করে দেয়া হয়েছে।
সরকারি উদ্ধার সংস্থা ‘১১২২’-এর প্রধান আবিদ জালালউদ্দিন শেখ জানিয়েছেন, দিনের বেলায় বেশির ভাগ নারী ঘরেই থাকেন, তাই হতাহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।
বাড়িটির এক বাসিন্দা মায়া শামজি জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে তার ভাইয়ের পরিবারও আটকে আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা এক বিশাল ট্র্যাজেডি। আমাদের জীবনের চেহারা পুরোপুরি বদলে গেছে। আমরা অসহায়ভাবে শুধু তাকিয়ে আছি—কখন উদ্ধারকর্মীরা আমাদের প্রিয়জনদের ফেরত আনবেন।’










