যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। বৃহস্পতিবার নতুন নির্বাহী আদেশে এ শুল্ক আরোপ করা হয়। ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্য ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে জানিয়ে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। নতুন আদেশ অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো অসম, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত (মূল্যভিত্তিক) শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক হারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে ট্রাম্পের নতুন শুল্কহার এরকম––
১০ শতাংশ: ব্রাজিল, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাজ্য এবং নির্বাহী আদেশে তালিকাভুক্ত নয় এমন অন্যান্য সব দেশ
১৫ শতাংশ: আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, বলিভিয়া, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, চাদ, কোস্টারিকা, আইভরি কোস্ট, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, ইকুয়েডর, নিরক্ষীয় গিনি, ফিজি, ঘানা, গায়ানা, আইসল্যান্ড, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, লেসোথো, লিচেনস্টাইন, মাদাগাস্কার, মালাউই, মরিশাস, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নাউরু, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, নরওয়ে, পাপুয়া নিউ গিনি, দক্ষিণ কোরিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনিজুয়েলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে
১৮ শতাংশ: নিকারাগুয়া
১৯ শতাংশ: কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন
২০ শতাংশ: বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম
২৫ শতাংশ: ব্রুনাই, ভারত, কাজাখস্তান, মলদোভা, তিউনিসিয়া
৩০ শতাংশ: আলজেরিয়া, বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনা, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
৩৫ শতাংশ: ইরাক, সার্বিয়া
৩৯ শতাংশ: সুইজারল্যান্ড
৪০ শতাংশ: লাওস, মিয়ানমার
৪১ শতাংশ: সিরিয়া।
এর বাইরে কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম রয়েছে। এর মধ্যে কানাডা নতুন শুল্ক কার্যকরের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে। মেক্সিকোর ফেন্টানাইল ও গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ এবং ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে–– যা ৯০ দিনের মধ্যে শুরু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা পণ্য শূন্য থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের মুখোমুখি হচ্ছে। এই হার ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর করা শুরু হবে
এদিকে, আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে শুল্কহার কমানো হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর কেউ পাল্টা ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরো বাড়বে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা ৯০ দিনে ৯০টি চুক্তির লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। পরে এ সময়সীমা পহেলা আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।এর মধ্যে চীন ও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দিলেও আলোচনায় অংশ নেয়া দেশের সংখ্যাই বেশি ছিল। যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য দেশের ভেতরে আইনি বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিকারক পাঁচটি ক্ষুদ্র ব্যবসার পক্ষে মামলা দায়ের করেছিলো রাজনৈতিক সংস্থা লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার। ওই মামলা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত 'লিবারেশন ডে' ট্যারিফের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ।
মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড রায় দেয়, যে জরুরি আইনের অজুহাত দেখিয়ে হোয়াইট হাউজ এই শুল্ক আরোপ করেছে, সেই আইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে একচেটিয়াভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে শুল্ক বসানোর এখতিয়ার দেয় না। তবে একদিন পরেই এই রায় বাতিল হয়ে যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আদায় আপাতত চালিয়ে যেতে পারবেন বলে রায় দেয় দেশটির এক ফেডারেল আপিল আদালত।










