‘স্ট্রাইক ফান্ড’ গঠন করে দেশব্যাপী ধর্মঘটের মাধ্যমে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেয়ার জন্য সাহায্য করতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের শেষ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা পাহলবির পুত্র নির্বাসনে থাকা রেজা পাহলবি। খবর এপি।

সম্প্রতি ইউরোপ সফরে পাহলবি বলেন, ‘শ্রমিক ধর্মঘটের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা আমরা অর্থায়ন করতে পারলে তা সর্বনিম্ন ব্যয়ে সম্ভব এবং কয়েক মাসের মধ্যেই ফল দিতে পারে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থসম্পদ থেকেই এই তহবিল সরবরাহ করা যেতে পারে।

পাহলবির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান পারমাণবিক আলোচনা ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ চললেও তা ব্যর্থ হবে। তার ভাষায়, ‘এই শাসনব্যবস্থা কখনোই সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায় বসে না। এই আলোচনাগুলো কেবল এক পতনশীল স্বৈরশাসনকে সময় দেবে।‘

তিনি বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করেন, কূটনৈতিক কিংবা সামরিক পদক্ষেপের বদলে ইরানের জনগণকেই পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হোক। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি তৃতীয় পথ প্রস্তাব করছি—এটাই সর্বোত্তম। ইরানের মানুষকে পরিবর্তনের এজেন্ট হতে দিন।‘

রেজা পাহলবি আরো বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় যেমন তেলশ্রমিকদের মাসব্যাপী ধর্মঘট শাহবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তেমনই আবার শ্রমিক ধর্মঘটই বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। তিনি ২০২১ সালে ইরানে পেট্রোকেমিক্যাল শ্রমিকদের কর্মবিরতির উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ইরানে ইন্টারনেট সেন্সরশিপের মধ্যে ইলন মাস্কের স্টারলিংক টার্মিনালগুলো গোপনে প্রবেশ করানো হচ্ছে, যা সরকারবিরোধীদের সংযোগ তৈরিতে সাহায্য করছে। এখন এমন প্রযুক্তিও এসেছে যা মোবাইল ফোনকে সরাসরি স্যাটেলাইটে যুক্ত করতে পারে, সে জন্য টার্মিনালের প্রয়োজন নেই। তিনি এই সরঞ্জামগুলো দিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলতে পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানান।

পাহলবি জোর দিয়ে বলেন, তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা চান না। বরং একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নে ‘অন্তর্বর্তী নেতা’ হিসেবে কাজ করতে চান। ‘আমি কোনো পদে নির্বাচন করতে চাই না, কিন্তু এমন একজন হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি যাকে মানুষ বিশ্বাস করে,’ বলেন তিনি।

তিনি তিনটি মূল স্তম্ভে ভিত্তি করে ইরানের নতুন সংবিধানের প্রস্তাব দেন:

১. ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা

২. ধর্ম থেকে রাষ্ট্র আলাদা করা

৩. মানবাধিকারের প্রতিটি মৌলিক নীতি সংরক্ষণ—যার মধ্যে রয়েছে ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা।

তবে পাহলবির ভূমিকা নিয়ে ইরানিদের মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ১৯৭৯ সালের শাহ শাসনের সময়কার দুর্নীতি, এলিটদের বিচ্ছিন্নতা এবং কুখ্যাত সাভাক গোপন পুলিশের কথা আজও মানুষ ভুলে যায়নি।

চ্যাথাম হাউজ-এর বিশ্লেষক সানাম বাকিল বলেন, ‘৪৬ বছর ধরে যিনি ইরানে নেই, তিনি কেন পরিবর্তনের প্রধান প্রতিনিধি হবেন? দেশে থাকা সাহসী অধিকারকর্মীদের ওপরই ভরসা ও বিনিয়োগ করা উচিত।‘