ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ইয়ান উইলমুট আর নেই। ডলি নামের একটি ভেড়ার ক্লোনিং দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। খবর এপি।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরা ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পারকিনসন রোগে ভোগার পর গত রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) উইলমুট মারা গেছেন।

১৯৯৬ সালে ডলির জন্ম। ওই সময় ঘটনাটিকে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ঘোষণা করলেও বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হন এ বিজ্ঞানী।

উইলমুট জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রোজলিন ইনস্টিটিউট ফর অ্যানিমেল বায়োসায়েন্সে তার নেতৃত্বাধীন দল একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়ার কোষের নিউক্লিয়াস ব্যবহার করে ক্লোনের মাধ্যমে শাবকের জন্ম দিয়েছে। এর মাধ্যমে জেনেটিকালি অভিন্ন প্রাণী তৈরি করা যায় বলে প্রমাণিত হয়।

একাডেমিক পেপারে প্রাথমিকভাবে ‘৬এলএল৩’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে গায়িকা ডলি পার্টনের নামানুসারে শাবকটির নাম রাখা হয় ডলি।

সমালোচকরা এই ধরনের পরীক্ষাকে ‘অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ডলির জন্মের পরের বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মানব ক্লোনিংয়ের জন্য ফেডারেল তহবিল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু এর ফলে প্রায় সব ধরনের ক্লোনিং গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়।

ডলির সৃষ্টি অন্যান্য বিজ্ঞানীদের কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া ও ষাঁড়সহ প্রাণীদের ক্লোন করতে প্ররোচিত করেছিল। মানুষ ও বিলুপ্ত প্রজাতির সম্ভাব্য ক্লোনিং সম্পর্কে প্রশ্ন উস্কে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জিন সম্পাদনা ও ক্লোনিংয়ের মিশ্রণে উলি ম্যামথকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ছবি: এপি

ডলি মূলত জেনেটিকালি পরিবর্তিত ভেড়া তৈরির একটি বিস্তৃত প্রকল্পের অংশ ছিল। যা তাদের দুধে থেরাপিউটিক প্রোটিন তৈরি করতে পারে। জন্মের প্রায় ছয় বছর পর ফুসফুসের দুরারোগ্য টিউমারে মারা যায় ডলি।

ইয়ান উইলমুট ছিলেন প্রশিক্ষিত ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ। পরবর্তীতে ক্লোনিং কৌশল ব্যবহার করে স্টেম সেল তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তার গবেষণা ছিল শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করে জেনেটিক ও অবক্ষয়জনিত রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবন।

উইলমুট ২০০৮ সালে নাইট উপাধি পান ও ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যান। পরে পারকিনসনস নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি।

এডিনবরা ইউনিভার্সিটি জানায়, স্ত্রী, তিন সন্তান ও পাঁচ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন উইলমুট। এখনো তার শেষকৃত্যের সময় ঠিক হয়নি।