একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জাপানের ক্ষমতাসীন দলের টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই রোববার দেশটিতে আগাম নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান নির্বাচিত হওয়ার তিনদিন পর এ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিগেরু ইশিবা, যা এলডিপির জন্য একপ্রকার রাজনৈতিক জুয়া বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন। খবর বিবিসি।

এলডিপির জনপ্রিয়তা বর্তমানে ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা রাজনৈতিক তহবিল নিয়ে কেলেঙ্কারি ও বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের সঙ্গে দলের সম্পর্ক প্রকাশ পাওয়ার পরই ধস নামে। এতকিছুর পরও, এলডিপির প্রধান বিরোধী দলগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীদের সমর্থন এখনো কম। পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সময় প্রধান বিরোধী দলের প্রতি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল।

২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো ফুমিও কিশিদা গত আগস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর দলীয় প্রধানের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শিগেরু ইশিবা। হারানো জনসমর্থন ফেরাতে এলডিপি যখন মরিয়া, ঠিক তখনই এ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা আসে।

বিবিসি লিখেছে, নির্বাচন আয়োজন দেখে মনে হতে পারে, ইশিবা রাজনৈতিক জুয়া খেলছেন। নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে তার দলের ছিল ২৪৭টি আসন, আর জোটের শরিক কোমেইতোর দখলে ছিল ৩২টি আসন। ডায়েট নামে পরিচিত নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে একটি দলের অন্তত ২৩৩টি আসন প্রয়োজন হয়। কোমেইতো আগের সমান আসন ধরে রাখতে সক্ষম হবে না বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল সবশেষ সংসদে ৯৮টি আসন পেয়েছিল, তারা এবার আরো ভোটার টানার চেষ্টা করছে।

টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফ কিংস্টন মনে করেন, এলডিপি নিজেদের তৈরি করা সংকটে পড়েছে, যা থেকে বের হতে তাদের ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। যদিও এর মাধ্যমে এলডিপির পরাজয় হবে বলে মনে করেন না তিনি। তার মতে, এলডিপি এমন আসন হারানোর শঙ্কায় রয়েছে, যেখানে জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনা সমান।

সাম্প্রতিক কালে জাপানিরা নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের জন্য হাঁপিয়ে উঠেছে। তিন দশক ধরে মজুরি না বাড়লেও জিনিসপত্রের দাম গত দুই বছরে এত বেড়েছে, যা গত অর্ধশতাব্দীতে দেখা যায়নি। এ মাসে ভোটাররা যখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ডাক, ওষুধ, বিদ্যুৎ, গ্যাসের মতো নিত্যপণ্যের দাম আরো বেড়েছে।