পশ্চিম আফগানিস্তানে পরপর ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র খবরটি নিশ্চিত করে জানান, দুর্যোগকর্মীরা ধসে পড়া গ্রামে বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

কাতার ভিত্তিক তালেবান মুখপাত্র সুহেল শাহীনের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে আলজাজিরা। তিনি বলেন, দুই দশকের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

গতকাল শনিবার (৭ অক্টোবর) ইরানের সীমান্তবর্তী পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাতে ভূমিকম্প আঘাত হানে।

প্রাথমিকভাবে শতাধিক নিহতের খবর নিশ্চিত করে সরকারি সূত্র। তবে আজ রোববার সকাল থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হচ্ছে। সরকারের মুখপাত্র বিলাল করিমি আজ ভোরে বলেন, মৃতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। চূড়ান্ত পরিসংখ্যানের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালেবানের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেছেন, এ সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

মার্কিন ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হেরাত শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ সড়কে নেমে এলেও অনেকেই বাড়িতে আটকে পড়েন। মূলত বাড়ি ভেঙে ও দেয়াল চাপা পড়ে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে আফটার শকগুলোর কম্পনমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার।

এখন পর্যন্ত নয় হাজারেরও বেশি নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান মোসা আশরি।

আফগানিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ভূমিকম্পে আক্রান্ত হেরাত। শহরটি আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত।