ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে পাকিস্তান ও ইরাকের মতো দেশগুলোতে খামেনির অনুসারীরা সহিংস বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে থাকা খামেনিবিরোধীদের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে। করাচিতে মার্কিন কনসুলেটে হামলার ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পাকিস্তানের করাচিতে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ বিক্ষোভকারী করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটের নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। স্থানীয় পুলিশ ও কনসুলেট রক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে অন্তত নয়জন নিহত হন। এছাড়া কয়েক ডজন মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করাচি ছাড়াও লাহোর এবং ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে খামেনিপন্থী শত শত মানুষ হাই-সিকিউরিটি ‘গ্রিন জোন’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা বাগদাদের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দেন। অন্যদিকে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও লাদাখেও খামেনির মৃত্যুতে হাজার হাজার মানুষ শোক মিছিল বের করেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে একদিকে যেমন সরকারিভাবে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে অনেক সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ করতে দেখা গেছে। জার্মানির বার্লিন, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক হাজার ইরানি প্রবাসী জড়ো হয়ে খামেনির মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা এ ঘটনাকে ‘ইরানের মুক্তির সূচনা’ বলে অভিহিত করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এবং হোয়াইট হাউজের সামনে যুদ্ধবিরোধী মার্কিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘ উভয় পক্ষই এ হামলাকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া ও চীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, করাচির পরিস্থিতি এখনো থমথমে এবং সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইরাক সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা জারি রয়েছে। খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের ঘোষণা দিলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কেন্দ্র কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বনেতারা গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।










