রুশ আগ্রাসনের ১ হাজারতম দিনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় আঘাত হেনেছে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের হাজারতম দিন। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন থেকে সদ্য পাওয়া অনুমতির সুযোগ নিয়ে এদিনই প্রথমবারের মতো মার্কিন এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। খবর রয়টার্স।
রাশিয়ার দাবি, তাদের বাহিনী ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে পাঁচটি ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সেই স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয় এবং হতাহতের কোনো ঘটনা বা ক্ষতি হয়নি।
ইউক্রেন জানিয়েছে যে, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার (৭০ মাইল) দূরে একটি রুশ অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে একটি ইউক্রেনীয় সরকারি সূত্র এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা এটিএসিএমএস ব্যবহার করেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি প্রতিরোধ করেছে এবং আক্রমণটি একটি গোলাবারুদ সরবরাহ স্থলে চালানো হয়েছিল।
বাইডেন এই সপ্তাহে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে এ ধরনের হামলার জন্য ওয়াশিংটনের সরবরাহ করা দীর্ঘতম রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্র এটিএসিএমএস ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, এটিএসিএমএসের ব্যবহার স্পষ্ট সংকেত দেয় যে, পশ্চিমারা সংঘাত বাড়াতে চায়।
মস্কো বলেছে, এ ধরনের অস্ত্রগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনাগত সহায়তা ছাড়া চালু করা যাবে না এবং তাদের ব্যবহার ওয়াশিংটনকে যুদ্ধের সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত করবে। এর ফলে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও আসবে প্রতিশোধ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কমপক্ষে আটটি স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ৪২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৩২টি ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইউক্রেনকে কুরস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার দখলে থাকা একটি অংশকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এটি হতে পারে দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার।
তবে ইউক্রেন আক্রমণে মস্কো যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তার চেয়ে এটিএসিএমএসের পরিসীমা অনেকটাই কম। এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। আর মস্কোর ব্যবহৃত হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।










