যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ন্যাটালি হার্পের লেখা দুটি ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি বিস্ট। চিঠিগুলোয় ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর আনুগত্য ও আবেগের প্রকাশ ঘটেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ওপর তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একটি চিঠিতে হার্প ট্রাম্পকে লিখেছেন, ‘আপনিই আমার কাছে সবকিছু। আমি কখনোই আপনাকে হতাশ করতে চাই না।’ আরেক জায়গায় তিনি নিজেকে ট্রাম্পের ‘অযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। চিঠি দুটির কিছু অংশ আগে লেখক মাইকেল উলফের বই ‘অল অর নাথিং’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসও সংক্ষিপ্ত অংশ প্রকাশ করেছিল। তবে ডেইলি বিস্টের দাবি, এবারই প্রথম চিঠিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হলো।

lead-trump-natalie-1_3015

ট্রাম্প ও ন্যাটালি হার্প

চিঠিগুলো ২০২৩ সালের মে মাসে ট্রাম্পের স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের সময় অথবা সফরের পরপর লেখা। তখন হার্পের বয়স ছিল ৩১ এবং ট্রাম্পের ৭৬ বছর। ট্রাম্পের ওই সফরে অ্যাবারডিন, টার্নবেরি ও ডুনবেগে তার তিনটি গলফ কোর্স পরিদর্শন করা হয়।

একটি চিঠিতে সফরের সময় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার জন্য ক্ষমা চান হার্প। বিমানবন্দরের কাস্টমসের বাইরে পাসপোর্ট ছাড়া একা একটি ভ্যানে আটকে পড়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। পরে তিনি লেখেন, তার সিক্রেট সার্ভিসকে ফোন করা উচিত ছিল। গলফ মাঠে গাড়িতে না উঠে হেঁটে যাওয়ার জন্যও ক্ষমা চান তিনি।

AP26228780251736

ট্রাম্প ও ন্যাটালি হার্প

হার্প লেখেন, ‘আমি চাই আমাদের মধ্যে সবকিছু সবসময় ঠিক থাকুক। আপনাকে আনন্দ দেয়া ছাড়া আর কিছুই আমি চাই না।’ ট্রাম্পকে তিনি নিজের ‘অভিভাবক ও রক্ষাকর্তা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।

দ্বিতীয় চিঠিতে হার্প জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ মাঠে কাটানো সময় তিনি উপভোগ করেছেন। সেখানে যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত কাজের চাপ থেকে দূরে থেকে তাদের কথোপকথনের সুযোগ হয়েছিল। হার্পের ডাকনাম ‘হিউম্যান প্রিন্টার’। ট্রাম্পের জন্য ইতিবাচক সংবাদ ও প্রতিবেদন নিয়মিত ছাপিয়ে দেয়ার কারণে সহকর্মীরা তাকে এ নামে ডাকতেন।

চিঠিতে হার্প লিখেছেন, তিনি কখনো কখনো সেই নারীদের দেখে ঈর্ষান্বিত হতেন, ‘যাদের একমাত্র কাজ ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলা এবং সুন্দর দেখানো।’ এরপর তিনি লেখেন, ‘আমি ওই কাজটি চাই।’ ট্রাম্প যখন তাকে ফোন করতেন এবং তারা ‘সবকিছু ও কোনো কিছুই নয়’—এমন নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতেন, সেই সময়ের কথাও তার মনে পড়ে বলে জানান।

হার্প বর্তমানে বছরে দেড় লাখ ডলার বেতনে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ও নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ওভাল অফিসের বাইরে বসেন এবং ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘গেটকিপার’ হিসেবে পরিচিত। বিদেশী নেতাদের কেউ কেউ তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টেও তার প্রবেশাধিকার রয়েছে বলে জানা গেছে।

লেখক মাইকেল উলফ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের কয়েকজন কর্মকর্তা চিঠিগুলো তাকে দিয়েছিলেন। হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কর্মীরা ট্রাম্পের কাছে পাঠানো কাগজপত্রের স্তূপের মধ্যে চিঠি দুটি খুঁজে পেয়ে সেগুলোর ছবি তুলেছিলেন বলে দাবি করেন উলফ। তার ভাষায়, এ ধরনের সম্পর্ক পেশাদার কর্মপরিবেশে থাকা উচিত নয়।

AP26228763381356

ন্যাটালি হার্প

তবে হার্পের পক্ষে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি হার্পকে ট্রাম্পের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগীদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যম ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ চালাচ্ছে।

২০১৯ সালে ফক্স নিউজে উপস্থিত হওয়ার পর হার্প প্রথম ট্রাম্পের নজরে আসেন। পরে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেন এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হন। ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে কাজ করার পর ২০২২ সালে তিনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত দলে যোগ দেন। চিঠির একটির শেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে—ন্যাটালি।’