ভোটের ফল ঘোষণা শেষ না হতেই নতুন মন্ত্রিসভা সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের সদস্যরা। এক্ষেত্রে দেশটির অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। এসব বিষয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজও শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দল। কিছু নাম এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। এ তালিকায় রয়েছেন মার্কো রুবিও, রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, স্কট বেসেন্ট ও জন পলসনের মতো নেতা। খবর পলিটিকো ও রয়টার্স।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে বসবেন তিনি। তার আগেই নতুন প্রশাসন গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা। আর নতুন প্রশাসনের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা।
এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের রানিং মেট হওয়ার দৌড়ে ছিলেন ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও। ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেননি। তবে এটা জানিয়েছেন যে নতুন কোনো দায়িত্বের ব্যাপারে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।
মার্কো রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প। কারণ ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে রুবিওর নীতির মিল রয়েছে। রুবিও দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের বৈদেশিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটিতে আছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন রবার্ট ও’ব্রায়েন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন ও’ব্রায়েন। দুজন প্রায়ই জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বিল হ্যাগারটির নামও আলোচনায় আছে। টেনেসির এ সিনেটর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তাকে একজন শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী ধরা হচ্ছে।
নতুন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ধারণা করা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তাকে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস চাইছেন তার রাজ্যের সার্জন জেনারেল জোসেফ লাদাপোকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদে বসাতে। এ লক্ষ্যে লবিং শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করা জন ফ্লেমিং। নতুন মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চান বর্তমানে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এ ট্রেজারার।
নতুন প্রশাসনে অর্থমন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্কট বেসেন্ট, যিনি একসময় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের বিবেচনায় আসতে পারেন ধনকুবের জন পলসনও। তিনি হেজ ফান্ডের ব্যবস্থাপক এবং ট্রাম্পের একজন অন্যতম দাতাও।
ল্যারি কুডলোকেও অর্থমন্ত্রী পদে দেখা যেতে পারে। তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বেশির ভাগ সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কুডলো।
অর্থমন্ত্রীর পদে দেখা যেতে পারে রবার্ট লাইথাইজারকেও। তিনি ট্রাম্পের একজন অনুগত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছিলেন লাইথাইজার। অনেকে মনে করেন, অর্থমন্ত্রী করা না হলেও তাকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী পদের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হাওয়ার্ড লুটনিক। তিনি বর্তমানে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত কার্যক্রমের কো-চেয়ার। শুল্ক ব্যবহারসহ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ভূয়সী প্রশংসাকারী হিসেবেও পরিচিত লুটনিক।
দ্বিতীয় মেয়াদে রিচার্ড গ্রেনেলকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করতে পারেন ট্রাম্প। বর্তমানে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি-সম্পর্কিত উপদেষ্টাদের মধ্যে গ্রেনেল একজন। তাকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি ছিলেন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠককালে গ্রেনেলও উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে দেখা যেতে পারে মাইক ওয়াল্টজকে। তিনি ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য। ওয়াল্টজ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নিজেকে চীনের কট্টর সমালোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মাইক পম্পেওকেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে সিআইএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পম্পেও। পরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানান ট্রাম্প। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে আরেক আলোচিত নাম টম কটন। তিনি ট্রাম্পের দাতাদের পছন্দের একজন। এর বাইরে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো পদে আসতে পারেন কিথ কেলগ। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।










