প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের
হুমকি এসেছে উল্লেখ করে আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে নাইজারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতারা। পরবর্তী
নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে উড়োজাহাজ চলাচল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার
টোয়েন্টিফোরের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বর্তমানে নাইজারের আকাশে কোনো উড়োজাহাজ নেই।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর গ্রুপ ইকোওয়াস
গতকাল রোববার (৬ আগস্ট) সতর্ক করে বলেছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট
মোহাম্মদ বাজুম পুনর্বহাল না হলে তারা শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
জান্তার একজন মুখপাত্র জানান, দেশকে
রক্ষা করতে প্রস্তুত নাইজারের সশস্ত্র বাহিনী।
গত ২৬ জুলাই আটক হন বাজুম। এরপর প্রেসিডেন্ট
গার্ডের কমান্ডার জেনারেল আবদুরাহমানে তচিয়ানি নিজেকে দেশটির নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা
করেন।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশটি এক
সময় দখলে রাখা সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি অংশ এ সামরিক
অধিগ্রহণের নিন্দা জানিয়েছে।
গতকাল জাতীয় টেলিভিশনে নাইজারের জান্তার
প্রতিনিধি জানান, ‘একটি বিদেশী শক্তি’ নাইজারে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে- তাদের
কাছে এমন তথ্য রয়েছে।
এক বৈঠকের পর শুক্রবার ইকোওয়াসের সামরিক
প্রধানরা বলেন, সম্ভাব্য শক্তি ব্যবহারের জন্য একটি বিশদ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন তারা।
সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
তবে এক সপ্তাহ আগে ইকোওয়াস একটি আলটিমেটাম
দেয়। নাইজারের স্থানীয় সময় গতকাল মধ্যরাতের মধ্যে জেনারেলদের ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা
হয়। যা এর মধ্যে পার হয়ে গেছে।
নাইজেরিয়া, সেনেগাল, টোগো ও ঘানাসহ
পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্লক ইকোওয়াস।
নিন্দা ও ‘হুমকি’র মাঝে অভ্যুত্থান
নেতারা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ইচ্ছুক, এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল রাজধানী
নিয়ামের একটি স্টেডিয়ামে জান্তার হাজার হাজার সমর্থক প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে।
দুই প্রতিবেশী দেশ বুরকিনা ফাসো ও মালি
এর আগে সতর্ক করে দিয়েছিল, নাইজারে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপকে নিজেদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ
ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করবে তারা। দেশ দুটি এক সময় ইকোওয়াসের সদস্য ছিল। কিন্তু সামরিক
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের পর তাদের ব্লক থেকে বের করে দেয়া হয়।










