ছয় দিনের রাশিয়া সফর শেষে বাড়ি ফিরেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন রসদ জুগিয়েছে এ সফর। বিশেষ করে কিম ও ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অস্ত্র চুক্তি’ সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়েছে প্রতিপক্ষরা। তবে এ নিয়ে পরিষ্কার কোনো বার্তা মেলেনি।

রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, আজ রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের প্রাইমোরি স্টেশনে জমকালো আয়োজনে কিমের সাঁজোয়া ট্রেনকে বিদায় জানানো হয়।

চার বছরেরও বেশি সময় পর এবারই প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা। হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে গত মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ায় প্রবেশ করেন তিনি। বৈঠক ছাড়াও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্থাপনা ঘুরিয়ে দেখান। এছাড়া গতকাল রোববার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাকোয়ারিয়াম শো পরিদর্শন করেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন কিম। পশ্চিমের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বের মাঝে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন তারা। এ প্রসঙ্গে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তর কোরিয়া অত্যাধুনিক রুশ অস্ত্র প্রযুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর ব্যবহারে জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। যা কিমের পারমাণবিক ও মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এ সফরে রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ফাইটার জেট তৈরির প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন কিম জং উন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও অন্যান্য সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তারা তাকে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমান ও অন্যান্য যুদ্ধবিমান দেখান।

কিমকে দেখানো রাশিয়ান যুদ্ধবিমানগুলো ইউক্রেনে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে টিইউ-১৬০, টিইউ-৯৫ ও টিইউ-২২। এ যুদ্ধবিমান থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তারা।

কিমের সফরে শোইগু ও বিমানবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই কোবিলাশ প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন যে টিইউ-১৬০ এ সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাড়ি দিতে পারে এমন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যোগ করা হয়েছে।

গত জুলাই মাসে উত্তর কোরিয়ায় সফর করেন শোইগু। ওই সময় তিনি ‘সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি’ নিয়ে আলাপ করেছেন বলে জানায় পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো। কিম ও শোইগু গত শনিবার ভ্লাদিভোস্টক ভ্রমণ করেন, যেখানে তারা অ্যাডমিরাল শাপোশনিকভ ফ্রিগেট পরিদর্শন করেন। এ সময় নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল নিকোলাই ইয়েভমেনভ যুদ্ধ জাহাজের সক্ষমতা ও অস্ত্র সম্পর্কে অবহিত করেন। যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনে নিয়মিত ব্যবহৃত হওয়া দূরপাল্লার কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবারের সফরে কিমের সঙ্গে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিমান ও নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ছিলেন।

মধ্যাহ্নভোজের পর কিম ও শোইগু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ‘দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত ও কৌশলগত সমন্বয়, সহযোগিতা ও পারস্পরিক আদান-প্রদানকে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উদ্ভূত প্রায়োগিক সমস্যা’ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক ও প্রযুক্তি স্থাপনায় কিমের পরিদর্শন সম্ভবত রাশিয়ার কাছ থেকে তিনি কী চান তার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভবত পুতিনের ক্রমহ্রাসমান রিজার্ভ পুনরায় পূরণ করার জন্য যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ বিনিময়ে করতে ইচ্ছুক তিনি।

এর আগে পুতিনের সঙ্গে কিমের বৈঠক রাশিয়ার প্রধান মহাকাশকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। যা উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ-ভিত্তিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে। এছাড়া ১৯৮০ এর দশকের সোভিয়েত যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করে থাকা উত্তর কোরিয়া আরো হালনাগাদ প্রযুক্তি পেতে উদগ্রীব।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে