গতকাল দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বাশারের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় এটিই প্রথম কোনো ফৌজদারি দণ্ড। খবর রয়টার্স।

একই মামলায় বাশারের ছোট ভাই ও সাবেক চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের প্রধান মাহের আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন বাশার আমলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং তার চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবও। তবে নাজিবকে আদালতে উপস্থিত রেখেই বিচার করা হয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বিক্ষোভই পরে দেশটির দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে দামেস্কে জড়ো হন বহু মানুষ। তারা সিরিয়ার পতাকা হাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, স্লোগান ও করতালি দেন। দারাতেও রায়কে স্বাগত জানিয়ে মানুষের সমাগম হয়। সেখানে যুদ্ধের সময় নিহত ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি নিয়ে অনেককে রাস্তায় দেখা যায়।

বাশার আল-আসাদ ২০০০ সালে তার বাবা হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। এরপর প্রায় ২৪ বছর দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। দীর্ঘ শাসনামলে সিরিয়ায় তার পরিবারের কর্তৃত্ব বজায় ছিল। দেশটিতে ২০১১ সালের আরব বসন্তের ঢেউয়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর তা দ্রুত সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক ও দ্রুতগতির অভিযানের মুখে বাশার সরকারের পতন ঘটে।

বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে থাকা বর্তমান সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বাহিনী মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের অভিযানে রাজধানী দামেস্ক দখল করে। বাশার রাজধানী ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। পরে রাশিয়া তাকে ও তার পরিবারকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়। সিরিয়ার নতুন সরকার বাশার ও তার ভাই মাহেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরই এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিরিয়ার আইন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার আল-বুনির মতে, কোনো দেশ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া রাষ্ট্রের কাছে একজন আসামিকে হস্তান্তর করতে চাইবে না। তার ভাষায়, এ রায় বাশারকে সিরিয়ায় ফিরিয়ে আনার পথ আরো কঠিন করে তুলতে পারে। তিনি এটিকে ‘প্রতীকী বিচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, প্রকৃত অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার নয়।

সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য বিচার প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের পর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

বাশারের বিরুদ্ধে সিরিয়ার বাইরে ফ্রান্সেও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০১২ সালে হোমসে একটি সংবাদ কেন্দ্রে বোমা হামলার ঘটনায় ওই পরোয়ানা জারি করা হয়।