ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি মুক্তি বিষয়ক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে কাতার। দেশটির কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার (৯ নভেম্বর) এ কথা জানিয়েছেন। দেশটি বলেছে, ইসরায়েল ও হামাস আলোচনা করতে ইচ্ছুক হলেই কাতার আবার তার ভূমিকা পালন করবে। খবর বিবিসি।

সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, কাতারে হামাস প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আর মেনে নেবে না ওয়াশিংটন। সে সঙ্গে, গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য নতুন প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করার জন্য ফিলিস্তিনি এই গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তার কিছুদিন পরই কাতারের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা স্থগিতের খবর এল।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার ১০ দিন আগে চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ প্রচেষ্টার সময় উভয় পক্ষকে জানিয়েছিল, ঐ রাউন্ডে কোনো চুক্তি না হলে তারা হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের প্রচেষ্টা স্থগিত করবে। উভয় পক্ষ এই নির্মম যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা এবং আন্তরিকতা দেখালে কাতার আবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা শুরু করবে।

২০১২ সাল থেকে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের একটি অফিস রয়েছে। দাবি করা হয়, ওবামা প্রশাসনের অনুরোধেই অফিসটি স্থাপন করা হয়েছিল।

শনিবার একাধিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছে যে, তারা দোহায় হামাসকে তাদের রাজনৈতিক অফিস বন্ধ করতে বলবে কারণ, হামাস চুক্তির ব্যাপারে সৎভাবে আলোচনা করতে রাজি নয়।

কিন্তু কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে। হামাস কর্মকর্তারাও এই দাবিগুলো অস্বীকার করেছেন।

ছোট হলেও প্রভাবশালী এই উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র। দেশটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাঁটির অবস্থান এবং ইরান, তালেবান এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবেদনশীল রাজনৈতিক আলোচনা কাতার পরিচালনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে কাতারও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে আসা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।