গাজায় গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য। দুইজন কংগ্রেস সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ে প্রায় একই সংখ্যক হামাস যোদ্ধা নিহতও হয়েছেন। ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় নিহত মোট হামাস যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাইডেন প্রশাসনের শেষ কয়েক সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হালনাগাদ তথ্যের মধ্যে হামাস সম্পর্কিত তথ্যও ছিল। সেখানে বলা হয়েছে, হামাসে যোগ দেয়া নতুন সদস্যদের মধ্যে অনেকেই তরুণ, তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই এবং কেবল সাধারণ নিরাপত্তার জন্যই তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দফতর (ওডিএনআই) এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ১৪ জানুয়ারি বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে হামাস প্রায় ততটাই যোদ্ধা নিয়োগ করেছে যতটা তারা ফিলিস্তিনি অঞ্চলটিতে হারিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান বিদ্রোহ ও চিরস্থায়ী যুদ্ধের একটি রেসিপি এটি।

এ সম্পর্কে হামাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু উবাইদা জুলাইয়ে বলেছিলেন যে, গোষ্ঠীটি হাজার হাজার নতুন যোদ্ধা নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরের দিনগুলোতে হামাস গাজায় তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। গাজায় হামাস পরিচালিত প্রশাসন বেশ দ্রুত উপত্যকাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করেছে এবং উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশে মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধারও শুরু করেছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হামাস কতজন যোদ্ধা হারিয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো আনুমানিক সংখ্যা প্রকাশ্যে বলেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে তারা শুধু উল্লেখ করেছে যে, গোষ্ঠীটি সম্ভবত হাজার হাজার যোদ্ধা হারিয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।