২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে জয়লাভ করেছিলেন জো বাইডেন। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ছেড়ে যান ট্রাম্প। যাওয়ার সময় মেরিল্যান্ডের এয়ার বেজ জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সমর্থকদের তিনি বলেছিলেন, ‘বিদায়। আমরা আপনাদের ভালোবাসি। আমরা কোনো না কোনো ফর্মে ফিরবই। আপনাদের সঙ্গে শিগগিরই দেখা হবে।’ চার বছর পর তিনি তা করে দেখিয়েছেন। ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু চার বছরের যাত্রায় বেশ চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এপির প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

২০২০ সালের নির্বাচনের পরের বছরগুলোয় চারটি ফৌজদারি অভিযোগ, ৩৪টি গুরুতর অভিযোগ, একটি নাগরিক জালিয়াতির বিচার ও যৌন নির্যাতনের জন্য দায়বদ্ধ হওয়াসহ অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তাকে বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছে এবং এখনো কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন। তবে তিনি তার আইনি লড়াইকে দেশের অবস্থা, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেন। ট্রাম্প পডকাস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিলেন এবং জীবনযাত্রার বিষয়ে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

দুবার হত্যা চেষ্টার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। অন্যদিকে নির্বাচনের কাছাকাছি সময় এসে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী পরিবর্তনের মতো বড় ইস্যু সামলিয়ে প্রচারণা চালাতে হয়েছে। জনমত জরিপে অধিকাংশ সময় কমলা হ্যারিস এগিয়ে ছিলেন। গত অক্টোবরে এসে ব্যবধান কমিয়ে এনে এক সময় সমানে সমান লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে ট্রাম্পের প্রচার শিবির। ঠিক এ কারণেই জয়ের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ক্রিস লাসিভিতা বলেন, ‘এটি ছিল চমকময় অক্টোবর প্রচারণা।’

সমালোচনা ও আইনি ইস্যু সত্ত্বেও রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার উল্লেখ করে এক এক করে সমর্থন অর্জন করতে থাকেন। এমনকি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও সমর্থন পেতে থাকেন। জুনে নির্বাচনী বিতর্কে তার কাছে জো বাইডেন ধরাশায়ী হয়। জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটরা কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পেনসিলভানিয়ায় প্রচারাভিযানে হামলার শিকার হন তিনি। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তার কান ভেদ করে গুলি চলে যায়। একজন সমর্থক মারাও যান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ফাইট! ফাইট! ফাইট!’ ট্রাম্পকে ৪৫ বছর ধরে চেনা দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান কর্মী রজার স্টোন বলেন, ‘(ট্রাম্পের বিরুদ্ধে) সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে।’

বয়স ও সক্ষমতার বিচারে জো বাইডেন যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন, তখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ট্রাম্পের জন্য। কারণ বাইডেনকেন্দ্রিক প্রচার শিবিরের খরচ অনেকটাই হয়ে যায়। এদিকে হ্যারিসকেন্দ্রিক নতুন করে খরচ ও শ্রম দেয়ার বিষয় চলে আসে। তাছাড়া প্রশ্ন উঠতে থাকে যে যুক্তরাষ্ট্র কি প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে। তাছাড়া হ্যারিসের বয়স তুলনামূলক কম। ট্রাম্প হ্যারিসকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। ট্রুথ সোশ্যাল সাইটে তিনি হ্যারিস ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে যৌন অনুগ্রহ ব্যবহার করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে শেষমেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পই ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, যা তার জন্য জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। কারণ এর মাধ্যমে তিনি তার স্বাধীনতা ফিরে পাবেন। এখন তিনি তার বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্ত শেষ করতে পারবেন।