শিগগিরই বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি।’

তবে এ বিষয়ে চীনা দূতাবাস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজও। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে সর্বশেষ বৈঠকে বসেছিলেন এ দুই নেতা। 

কয়েক মাস ধরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে। চলতি বছর জুনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, জুলাইয়ে অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ও আগস্টে বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো চীন সফর করেন। এছাড়া সম্প্রতি নিউইয়র্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং। অন্যদিকে, মাল্টায় সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট।

আগামী মাসে সান ফ্রান্সিস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক কোপারেশন সামিট। সেখানেই সাইডলাইনে এ বৈঠক হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর দিতে গিয়ে এ আশাবাদের কথা জানান জো বাইডেন। বলেন, এখনও তেমন ঠিকঠাক হয়নি। তবে সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেও বৈশ্বিক পরাশক্তি এ দুই দেশ তাদের মধ্যকার সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চায়। আর এ কারণেই এ দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক হবে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে এরইমধ্যে বৈঠকের বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে।

মাঝে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দেখা দেয় বেশ টানাপোড়েন। মার্কিন সরকার চীনে উন্নত কম্পিউটার চিপ রফতানি কমিয়ে দেয়।

শুরু থেকেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সাইডলাইনে অবস্থান করছে চীন। তবে এ ব্যাপারেও রয়েছে মার্কিন সরকারের জোর অভিযোগ। তারা জানায়, বেইজিং অস্ত্র দিয়ে মস্কোকে সহায়তা করছে।