ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে আবারো বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৭৩ জন নিহত হয়েছে। উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪২ হাজার ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু বলে জানিয়েছে গাজা প্রশাসনের জনসংযোগ বিভাগ।
গাজার জনসংযোগ কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় চলা ইসরায়েলের ৩৮৫ দিনের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৩৮টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে ইসরায়েল। এছাড়া গাজার জরুরি সেবা বিভাগের ৮৩ কর্মী নিহত হয়েছেন। সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ১৭৭ জন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৬টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবারের সবাই মারা গেছে। ইসরায়েলি অবরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে রাখায় ৩৭ ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন। এছাড়া ৩ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি শিশু অপুষ্টির কারণে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
এদিকে গাজা শাসনকারী হামাস কর্তৃপক্ষ গতকাল এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার দিনগত রাতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। হামলায় আরো মানুষ আহত হয়েছে এবং অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসরায়েল বলেছে, তারা হামলায় হতাহতের রিপোর্ট পরীক্ষা করছে। কিন্তু একই সঙ্গে হামাস কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে তারা। ইসরায়েলের দাবি, এ বিষয়ে তাদের সেনাবাহিনীর কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে হামাসের তথ্য মেলে না।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলেছে, জনাকীর্ণ আবাসিক এলাকায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় পুরো একটি আবাসিক কমপ্লেক্স ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বেইত লাহিয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবিসিকে বলেছে, তারা হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে যা যা করা যায়, করেছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকেই গাজাজুড়ে অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি এ হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১০ হাজারের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে।










